…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
জাতীয়

মজুরি বোর্ড গঠনের পর সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মজুরি বোর্ড গঠনের পর সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের
ছবি: সংগৃহীত

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানায় উৎপাদন বন্ধের পরিস্থিতির মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের কাজে ফিরে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে সাভার-আশুলিয়ার একাধিক শ্রমিক নেতার সঙ্গে কথা হয়; তাঁরা বলেছেন, মাঠপর্যায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা তাঁরা এখন দেখছেন না। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শ্রমিক নেতাদের মতে, শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন ও নতুন মজুরি কার্যকর করা। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় এখন শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে যাওয়া উচিত। তবে কাজে ফেরার পরিবেশ তৈরি করতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেছেন, কারখানাগুলোতে কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে শ্রমিক আন্দোলন সহিংস পর্যায়ে পৌঁছাত না। মজুরি বোর্ড গঠনের পদ্ধতি ও বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের মধ্যে প্রচার করতে পারত; এতে শ্রমিকেরা বিষয়গুলো বুঝে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে পারতেন এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ধর্মঘট করার অধিকারও যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারতেন।

খাইরুল মামুন মিন্টু বলেছেন, শিল্পকারখানায় অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার না থাকায় শিল্পের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এ আন্দোলনের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোনো তৎপরতা ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আন্দোলন সহিংস পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা পণ্য রফতানির চালান বা শিপমেন্ট নিয়ে চাপে পড়েছেন বলে মনে করেন এই শ্রমিক নেতা। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন কারখানার শিপমেন্টের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে; বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরের বড়দিন সামনে রেখে অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই অধিকাংশ পণ্যের উৎপাদন শেষ করে শিপমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো নিয়ে অনেক মালিক সংকটে পড়ছেন।

খাইরুল মামুন মিন্টু বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি পোশাকশিল্প এমনিতেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মালিকেরা দাবি করছেন — ক্রয়াদেশ কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে এবং কিছু কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধও আছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার মালিকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও শ্রমিকদের জন্য কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাইরুল মামুন মিন্টু। তাঁর মতে, কারখানায় উৎপাদন চালু রাখা এবং মালিকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পণ্য শিপমেন্ট করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেছেন, শিল্পটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন; তখন নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে। দেশের ৪০ লাখ শ্রমিকের মধ্যে কিছু শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে; এমনিতেই আগে থেকে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার রয়েছেন। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে শ্রমিকদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।

মাঠপর্যায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে খাইরুল মামুন মিন্টু বলেছেন, এবারের আন্দোলন মূলত এক দফার ভিত্তিতে — সেটি মজুরিসংক্রান্ত দাবি; এখানে অন্য কোনো দাবি উত্থাপন করা হয়নি। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার শুধু মজুরিসংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ। কেউ কেউ নয় দফাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে আনছেন; তাঁর ধারণা, শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনকে মূল দাবি থেকে সরিয়ে অন্যদিকে নেওয়ার জন্যই এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করা; মালিকপক্ষও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে শ্রমিকদের মধ্যে এ নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে। সেই সন্দেহ থাকলেও কারখানার উৎপাদন সচল রেখে মজুরি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি; মজুরি ঘোষণার পর প্রয়োজন হলে আবার আন্দোলনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আশা করেন, সরকার শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মজুরি ঘোষণা করবে; ঘোষিত মজুরি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে পরবর্তী সময়ে মজুরি পর্যালোচনার সুযোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।

শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খাইরুল মামুন মিন্টু বলেছেন, কিছুক্ষণ আগেও তাঁর কাছে খবর এসেছে — পুলিশ শ্রমিকদের বাসায় বাসায় যাচ্ছে, এলাকার স্থানীয় লোকজন ও বহিরাগত ব্যক্তিরা তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং শ্রমিকদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হবে এবং আতঙ্কের কারণে তাঁরা কাজে ফিরতে চাইবেন না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকেরা নির্ভয়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে সাভারের আরেক শ্রমিক নেতা, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক — আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, দুই দলের নেতারাই মালিক; তাঁরাই মন্ত্রী, তাঁরাই সংসদ সদস্য। এক দল ক্ষমতা থেকে সরে যায়, আরেক দল ক্ষমতায় আসে, কিন্তু মালিকপক্ষের অবস্থান একই থাকে। শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম সুজন বলেছেন, মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল মে মাসে; দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে এবং নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন-সংগ্রামও চালানো হয়েছে, কিন্তু মালিকপক্ষ দাবিতে কর্ণপাত করেনি — এ কারণে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকেরা মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়; প্রকৃত শ্রমিকেরা এ ধরনের কাজ করেন না — একজন শ্রমিক কখনো নিজের কর্মস্থলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মেশিনের একটি সুতা পর্যন্ত ছিঁড়বেন না, কারণ এই শিল্পের ওপর নির্ভর করেই তাঁরা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন।

রফিকুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় এখন তাঁদের দাবি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা। সরকার সরকারি শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনকাঠামো ঘোষণা করেছে — সেখানে একজন পিয়নের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বসাকল্যে প্রায় ৩৮ হাজার ৪০০ টাকা; সেই বিবেচনায় ৩৫টি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০০ ডলার বা ৩৬ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনের মতো দেশের পোশাকশ্রমিকেরা বাংলাদেশের শ্রমিকদের তুলনায় বেশি মজুরি পান; অথচ বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির সময় এলেই বড় বড় মালিকেরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন — সাবকন্ট্রাক্টের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এরপর তাঁরা বলেন এত টাকা মজুরি দেওয়া সম্ভব নয়। ২০০৬ সাল থেকেই তিনি এই চিত্র দেখে আসছেন বলে জানিয়েছেন এই শ্রমিক নেতা।

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের পর শিপমেন্ট নিয়ে চাপে পোশাকমালিকরা
জাতীয়

সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের পর শিপমেন্ট নিয়ে চাপে পোশাকমালিকরা

সাভার-আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং সময়মতো রফতানি সচল রাখাই এখন শিল্পমালিকদের সামনে…

জাতীয়

পিএসসি ভবনের ছাদে বসছে ১২০ দশমিক ৯৬ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ, ডেসকোর সঙ্গে সমঝোতা সই

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ভবনের ছাদে ১২০ দশমিক ৯৬ কিলোওয়াট-পিক (কেডব্লিউপি) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। এ জন্য ঢাকা ইলেকট…

গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের পালে চার শাবকের জন্ম, সংখ্যা বেড়ে ১৩
জাতীয়

গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের পালে চার শাবকের জন্ম, সংখ্যা বেড়ে ১৩

গাজীপুর সাফারি পার্কের নীলগাইয়ের পালে নতুন চারটি শাবকের জন্ম হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে পার্কের কোর সাফারির হরিণ সাফারি এলাকায় শাবকগুলোর দেখা মেলে।…

ফটিকছড়ির তেলপারই খালে গাইড ওয়ালে আটকে আছে কোটি টাকার সেতু, পারাপারে বাঁশের সাঁকো
জাতীয়

ফটিকছড়ির তেলপারই খালে গাইড ওয়ালে আটকে আছে কোটি টাকার সেতু, পারাপারে বাঁশের সাঁকো

খালের দুই পাড়ে দুটি গাইড ওয়াল। পাশে পড়ে আছে মরিচা ধরা লোহার রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। তার পাশে বানানো একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছেন…