৩১ বছর পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনলাইন ম্যাগাজিন স্যালন

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রভাবশালী অনলাইন ম্যাগাজিন স্যালন ৩১ বছর প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া বিদায়ী বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এটি ছিল এক অসাধারণ সম্মান।’
ঘোষণাটিকে বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করা হয়েছে। স্যালন বলেছে, ‘স্বাধীন ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক বাস্তবতা বছরের পর বছর ধরে গভীরভাবে বদলে গেছে।’ কর্মীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কিছু জানানো হয়নি, তবে কয়েকজন জানিয়েছেন তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন।
স্বাক্ষরবিহীন বিদায়ী বার্তায় স্যালন বলেছে, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে স্যালন রাজনীতি, সংস্কৃতি, সমালোচনা ও ভাবনাকে এমনভাবে একসঙ্গে এনেছে, যা ছিল স্বতন্ত্রভাবে আমাদের নিজস্ব।’ বার্তায় আরও বলা হয়, তাদের সাংবাদিকতা ক্ষমতা ও রাজনীতি পরীক্ষা করেছে, প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করেছে এবং যেসব দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকত, সেগুলোর জন্য জায়গা তৈরি করেছে।
স্যালন যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি, ইন্টারনেট মূলধারায় আসার মাত্র প্রায় তিন বছর পর, যখন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ পুরো নামে লেখা হতো। সংবাদপত্র ও ছাপা ম্যাগাজিনের বাজার ভেঙে পড়ার এক দশক আগে এবং সামাজিক মাধ্যম সাংবাদিকতার জগৎকে খণ্ডিত করারও এক দশক আগে এটি চালু হয়।
নামের সঙ্গে মিল রেখে স্যালন শুরুতে অনলাইন ম্যাগাজিন ও মিলনস্থল হিসেবে সাজানো হয়েছিল, যেখানে এমন মতামত ও গল্প জায়গা পেত, যা দৈনিক সংবাদপত্র কিংবা তখনকার প্রভাবশালী টাইম বা নিউজউইকের মতো সাময়িকীতে সহজে জায়গা পেত না। দ্রুতই এটি এমন জায়গা হয়ে ওঠে, যেখানে লেখকেরা নিজেদের লেখা প্রকাশ করতে চাইতেন।
প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড ট্যালবট ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর পূর্তিতে বলেছিলেন, ‘সময়টা ঠিক ছিল — পাঠকেরা একঘেয়ে, বাজার-পরীক্ষিত মিডিয়া পণ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, আর ইন্টারনেট আমাদের শক্তিশালী কণ্ঠস্বরসহ মৌলিক কিছু চালুর সুযোগ দিয়েছিল।’
স্যালনে জেক ট্যাপার ও গ্লেন গ্রিনওয়াল্ডের মতো পরবর্তী সময়ে খ্যাতিমান হয়ে ওঠা লেখকেরা লিখেছেন। এর দুই প্রধান সম্পাদক ডেভিড ট্যালবট ও জোয়ান ওয়ালশ পরে প্রগতিশীল রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত হন।
ইন্টারনেট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্যালনের প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। পরের বছর স্লেট চালু হয় এবং এরপর অনলাইন ম্যাগাজিনই হয়ে ওঠে প্রচলিত ধারা। পরে দ্য আটলান্টিকের মতো পুরোনো ছাপা প্রকাশনাগুলোও অনলাইনে বেশি বিষয়বস্তু দিতে শুরু করে। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর খবর দিয়ে স্যালন সংস্কৃতি ও সমালোচনার গণ্ডি পেরিয়ে ব্রেকিং নিউজ কভারেজে পা রাখে।
তিন দশকের গল্পের বিশাল অনলাইন আর্কাইভের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্যালন তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।
বিবৃতিতে পাঠকদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্যালন বলেছে, ‘আপনারা স্যালনে এসেছেন সাংবাদিকতা, আলোচনা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার এবং ইন্টারনেটে এমন একটি জায়গার অনুভূতির জন্য, যেখানে ভাবনার গুরুত্ব ছিল।’ প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, পাঠকদের সম্পৃক্ততাই স্যালনকে একটি প্রকাশনা ও একটি সম্প্রদায়ে পরিণত করেছিল।




