রুশ দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বললেন, রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি আসন্ন হতে পারে। হোয়াইট হাউসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন নিষ্পত্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাব।’ তবে দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এটি একটি বড় চুক্তি হবে, এবং এতে ইউক্রেনের চেয়েও বেশি কিছু থাকবে।’ তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগে ‘সমগ্র ইউরোপ’ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ট্রাম্প প্রায়ই পূর্বাভাস দিয়েছেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত শেষ করার চুক্তি কাছাকাছি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলোচনা গতি পেয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, বৃহস্পতিবার তিনি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেননি।
ট্রাম্প ও দিমিত্রিয়েভের বৈঠকটি আসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজিত একটি কূটনৈতিক সমাবেশের পর। ওই সমাবেশে রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা একত্র হন অক্টোবরে দক্ষিণ ইউক্রেনের শহর ওলেশকিতে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া স্থানীয় ছয় দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্মরণ করতে ও তার ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
ওই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছিল। এর ফলে রুশ দখলে থাকা অবরুদ্ধ ওলেশকি শহর থেকে প্রায় ৮০০ বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। ওলেশকি ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের শহর।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দিমিত্রিয়েভ, রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লানত্রাতোভা, ইউক্রেনের পার্লামেন্টে সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল দলের নেতা ডেভিড আরাখামিয়া এবং ইউক্রেনের সংসদীয় মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস।
মেলানিয়া ট্রাম্প অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। হোয়াইট হাউস একে বর্ণনা করেছে ‘মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ফার্স্ট লেডি ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধরত দুই জাতির প্রতিনিধিদের কূটনীতির জন্য হোয়াইট হাউসে এনেছেন’ বলে।
মেলানিয়া বলেন, ‘একসঙ্গে আমরা একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির চেয়ে আরও স্থায়ী কিছু তৈরি করতে পারি।’ তিনি উভয় পক্ষকে ওলেশকির মানবিক যুদ্ধবিরতিকে ‘অন্ধকারের জগতে একটি স্ফুলিঙ্গ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
ফার্স্ট লেডি পুতিন ও জেলেনস্কির প্রতিনিধিদের হাতে বড় সাদা খাম তুলে দেন এবং প্রতিটি নেতার কাছে তাঁর ব্যক্তিগত চিঠি পৌঁছে দিতে বলেন। দিমিত্রিয়েভ তাঁকে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের আঁকা ছবি উপহার দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতিতে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতিতে তাঁকে অর্ডার অব প্রিন্সেস ওলগা পাঠান।




