ক্যালিফোর্নিয়ায় কেটি পেরির যুব ক্যাম্প প্রকল্পে আপত্তি, বাতিলের দাবিতে প্রায় ৪০০ প্রতিবেশীর পিটিশন

পপ সুপারস্টার কেটি পেরির একটি নতুন প্রকল্প ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গোলেটা ভ্যালির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ১১০ একর জায়গাজুড়ে একটি স্থায়ী ইয়ুথ ক্যাম্প ও আর্টস সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন এই গায়িকা, তবে স্থানীয়রা সেই উদ্যোগের ঘোর বিরোধিতা করছেন।
প্রকল্পটি বাতিলের দাবিতে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ প্রতিবেশী একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে অনুমোদনের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা প্রকল্পটি নিয়েই এখন সংশয় তৈরি হয়েছে।
কেটি পেরি ও তাঁর বোন অ্যাঞ্জেলা লার্চ তাঁদের অলাভজনক সংস্থা ফায়ারওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘গ্র্যাটিচ্যুড ক্যানিয়ন’ নামের এই প্রকল্পটি তৈরি করতে চাইছেন। মূলত ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিল্প, সংগীত ও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করতেই এই ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১১০ একরের এই সম্পত্তিতে ৮টি কেবিন, ডাইনিং হল, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, অ্যাম্ফিথিয়েটার ও একটি রেকর্ডিং স্টুডিও নির্মাণের কথা রয়েছে। অর্থাৎ ক্যাম্পে আসা শিশু-কিশোরদের থাকা, খাওয়া, খেলাধুলা ও শিল্পচর্চার সব আয়োজনই একই জায়গায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা কেটি পেরির দাতব্য কাজের প্রশংসা করলেও নিজেদের আবাসিক এলাকায় এত বড় প্রকল্প মেনে নিতে নারাজ। পিটিশনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই এলাকা দাবানলপ্রবণ হওয়ায় কোনো জরুরি অবস্থায় একসঙ্গে এত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া কঠিন হতে পারে।
পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের একটি প্রকল্প চালু হলে সেখানে প্রতিনিয়ত গাড়ি ও মানুষের আনাগোনা বাড়বে, যার ফলে যানজট ও শব্দদূষণের শিকার হবেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, সেখানে বিভিন্ন কনসার্ট বা বড় ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে এবং তাতে এলাকাটি আবাসিক চরিত্র হারিয়ে বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।
তবে কেটি পেরির ফাউন্ডেশনের দাবি, পুরো জায়গার মাত্র ৩ শতাংশে স্থাপনা থাকবে, বাকি ৯৭ শতাংশই উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবে সংরক্ষিত রাখা হবে। ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিনিরাপত্তা ও শব্দদূষণ রোধে বিশেষজ্ঞ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেই পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছে।
গ্র্যাটিচ্যুড ক্যানিয়ন প্রকল্পটি এখন কাউন্টি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশগত আইনের অধীনে এর প্রভাব মূল্যায়ন এবং আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণশুনানির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এসব মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের আপত্তির মুখে কেটি পেরির এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।




