জেরিকোতে আটটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দখল বসতি স্থাপনকারীদের, জাতিসংঘের নিন্দা
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আটটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দখলের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, বসতি স্থাপনকারীরা বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে পালাতে বাধ্য করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, আগের দিনের দখলের সময় বসতি স্থাপনকারীরা কথিতভাবে জীবন্ত গুলি ব্যবহার করেছে।
দুজারিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে এবং পাথর ছুড়েছে, যার ফলে পরিবারগুলো নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে যায়।
বাস্তুচ্যুত কয়েকজনের এখন পর্যাপ্ত আশ্রয় নেই। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এলাকাটিকে বন্ধ সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করেছে, ফলে মানবিক কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। দুজারিক বলেন, ‘আমরা আবারও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এসব সহিংস কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’
বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন পিস নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে জেরিকোর উপকণ্ঠে আইন আ-দুয়ুক আ-তাহতা এলাকার বাড়িগুলো দখল করতে আসে প্রায় ৩০ জন বসতি স্থাপনকারী।
সংগঠনটি বলেছে, দখলের সময় বসতি স্থাপনকারীরা দুজন ইসরায়েলি কর্মীকে লাঞ্ছিত ও তাদের জিনিসপত্র লুট করেছে এবং এক ফিলিস্তিনি পুরুষের পায়ে গুলি করেছে।
বসতি স্থাপনকারীদের দাবি, তারা বাড়িগুলো আইনগতভাবে কিনেছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্রির নথি জাল।
বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিনিধি হানান গ্রিনউড বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ডানপন্থী ইসরায়েলি সংগঠন নাচালা ‘আমাদের সহায়তায়’ আটটি বাড়ি কিনেছে। তিনি বলেন, সেখানে থাকতে পেরে তিনি ‘খুবই উচ্ছ্বসিত’। নাচালা অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণে অর্থ দেয় এবং ইসরায়েলের পক্ষে এলাকাটি সংযুক্ত করার প্রচার চালায়।
অন্যদিকে জেরিকো অঞ্চলের গভর্নর হুসেইন হামায়েল এএফপিকে বলেন, জমিটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এবং তা বিক্রি করা যায় না। তিনি বলেন, ‘যা প্রচার করা হচ্ছে তা বিক্রি নয়, জালিয়াতি, এবং যা ছড়ানো হচ্ছে তা বসতি স্থাপনকারীদের প্রচারণা।’
জমিটি পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’তে অবস্থিত, যা ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে এবং সেখানে বসতিগুলোতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করেন, যেগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।
এ বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা প্রায় সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং বৃহত্তর জেরিকো এলাকার কয়েকটি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় ইতিমধ্যে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
বাসিন্দারা বলেছেন, নতুন বসতি স্থাপনকারীরা এলাকায় হামলা আরও বাড়াবে এবং ভারী সেনা উপস্থিতি নিয়ে আসবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। পিস নাউয়ের মতে, হেবরনে পুরোনো শহরে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনির মধ্যে ৪০০ বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন এবং তাদের উপস্থিতি সেখানে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, ফিলিস্তিনিদের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ এবং হাজারো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে।




