অনলাইনে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়া কিশোরদের নিয়ে দাতব্য সংস্থার সহায়তা নিচ্ছে ব্রিটিশ পুলিশ

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনলাইনে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়া কিশোরদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পুলিশ বাহিনীগুলো এখন বিশেষায়িত দাতব্য সংস্থা ও অংশীদার সংস্থাগুলোর সহায়তার দিকে ঝুঁকছে। সামনের সারির কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, চরম ধরনের কনটেন্ট দেখার মধ্য দিয়ে তরুণেরা এমন পথে এগিয়ে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত শিশুদের প্রকৃত নির্যাতনের ছবির দিকে নিয়ে যায়।
শুক্রবার থেকে নতুন পর্নোগ্রাফি আইন কার্যকর হচ্ছে। নতুন আইনে শ্বাসরোধ, অজাচার — কয়েক ধরনের সৎ-সম্পর্কসহ — এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ বছরের কম বয়সীদের সঙ্গে যৌনতার কল্পনা অভিনয় করে দেখানো পর্নোগ্রাফি প্রকাশ বা নিজের কাছে রাখা অবৈধ হবে। পর্নোগ্রাফির সঙ্গে বাস্তব ক্ষতির যোগসূত্র নিয়ে বছরের পর বছর প্রচারণার ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ওয়েস্ট মের্সিয়ায় শিশু নির্যাতন তদন্তে নিয়োজিত বিশেষায়িত কর্মকর্তাদের দলের সদস্য ডিসি সারাহ টার্নার বলেন, এই আইন প্রয়োগ করা কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, ‘টিন’ সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্ন সার্চ শব্দগুলোর একটি; এই ধরনের কনটেন্টের প্রতি বিপুল আগ্রহ রয়েছে, যা সীমারেখা ঝাপসা করে দেয়।
ওয়েস্ট মের্সিয়া দলের প্রধান ডিসিআই জেরার্ড স্মিথ বলেন, এই ধরনের কনটেন্ট উৎস থেকে ছড়ানো ঠেকাতে বিতরণকারীদের ওপরই জোর দিতে হবে। তাঁর দলের কর্মকর্তারা প্রতিদিন ভোরে দরজায় গিয়ে যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট দেখা বা ছড়ানোর অভিযোগে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের সময় সহিংস পর্নোগ্রাফির প্রভাব দেখেন। স্মিথ বলেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে প্রতি মাসে অনলাইন শিশু যৌন নির্যাতনের অপরাধে পুলিশ প্রায় ১ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করে, যাঁদের বেশিরভাগই পুরুষ। টার্নার বলেন, ডার্ক ওয়েবে অপরাধীরা এমন সাইট ব্যবহার করে, যেগুলোর ধরন সাধারণ পর্ন সাইটের মতোই। তাঁর ভাষায়, অনুসন্ধানের শব্দ একই রকম হলেও সেসব ভিডিওতে প্রকৃত শিশুদের যৌন নির্যাতনের দৃশ্য থাকে।
ডিসি পেপ সালাদিনো বলেন, পুরুষেরা চরম কনটেন্ট দেখতে দেখতে একপর্যায়ে অসাড় হয়ে যাওয়ার কথা জানান। কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া অনেক পুরুষই জানিয়েছেন, পর্নোগ্রাফি থেকে শুরু করে তাঁরা ক্রমে শিশু নির্যাতনের দিকে ঝুঁকেছেন। ডিএস পিটার হুইলার বলেন, তাঁরা অনেক তরুণ প্রাপ্তবয়স্ককে দেখেন, যাঁরা শিশু বয়সে পর্নোগ্রাফি দেখা শুরু করেছিলেন।
ওয়েস্ট মের্সিয়ার কর্মকর্তারা এমন একটি পাইলট প্রকল্পের কথা ভাবছেন, যেখানে অবৈধ কনটেন্ট দেখা শিশুদের কাছে পুলিশের বদলে বেসামরিক ব্যক্তিদের পাঠানো হবে। স্মিথ বলেন, সারেতে ‘সোলাহ’ নামে একটি সফল প্রকল্পের পর কয়েকটি বাহিনী এই পথটি বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, শিশুদের অপরাধী বানানো তাঁদের উদ্দেশ্য নয়; অন্যের ওপর জোর খাটানোর মতো গুরুতর বিষয় না থাকলে সুরক্ষা পরামর্শ দেওয়ার জন্য পুলিশই সেরা সংস্থা নয়। এসব ঘটনার একটি অংশ কিশোরদের মধ্যে সেক্সটিং, আরেকটি অংশ চ্যাট সাইট ও ফোরামের মাধ্যমে সহিংস নির্যাতনের ছবির সংস্পর্শে আসা।
বিচার মন্ত্রণালয়ের নতুন বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে চরম পর্নোগ্রাফি ব্যবহারকারীদের ৬ নভেম্বরের আগে তা মুছে ফেলতে বলা হয়েছে, নইলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ক্লেয়ার ম্যাকগ্লিন বলেন, সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, এই আইন ব্যক্তির ফোনে কী আছে তা নজরদারির জন্য নয়; এটি প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে চরম ক্ষতিকর কনটেন্ট সরানোর জন্য।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের একজন মুখপাত্র বলেন, নির্দেশনা ও আচরণবিধি হালনাগাদ করার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন আইনি দায়িত্ব কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এ বিষয়ে পরামর্শ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার প্রথম ১৮ মাসে অফকম ১০০টির বেশি প্ল্যাটফর্ম তদন্ত করেছে এবং ১১টি সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে মোট ৭০ লাখ পাউন্ডের বেশি জরিমানা করেছে।
শিশু নির্যাতনের ছবি দেখা বন্ধে হেল্পলাইন ‘স্টপ ইট নাউ’ পরিচালনাকারী লুসি ফেইথফুল ফাউন্ডেশনের ভিকি ইয়ং এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা হাজারো মানুষ জানিয়েছেন, চরম পর্নোগ্রাফি তাঁদের অবৈধ যৌন ছবি দেখার পথে ভূমিকা রেখেছে, এবং এই নিষেধাজ্ঞা শিশুদের আরও নিরাপদ করবে বলে তাঁরা মনে করেন।



