পরিবার চেয়েছিল চিকিৎসক-আইনজীবী, চড়-থাপ্পড় পেরিয়ে নায়িকা হওয়ার লড়াই ববির

পর্দায় অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববিকে ঝলমলে দেখালেও এই পর্যায়ে পৌঁছানোর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন জানার পর বাসায় চড়-থাপ্পড়ও খেতে হয়েছে তাঁকে।
মডেলিং দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু ববির। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মুকুটও জিতেছেন তিনি। এরপর টিভি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান, তারপর ঢাকাই চলচ্চিত্রে পা রেখে নিজেকে মেলে ধরেন এই নায়িকা।
বড়পর্দায় নিজেকে দেখার স্বপ্ন তিনি বহু আগে হৃদয়ে বুনেছিলেন। স্মৃতিচারণ করে ববি বলেন, তাঁর মনে মনে সবসময়ই ইচ্ছা ছিল নিজেকে বড়পর্দায় দেখবেন; এই ইচ্ছা ঠিক কখন জন্ম নিয়েছিল, তা তিনি সঠিকভাবে মনে করতে পারেন না।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার চেয়ে সিনেমা দেখতেই বেশি পছন্দ ছিল ববির। তাঁর ভাষায়, তিনি খুব সিনেমাপ্রেমী ছিলেন; স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে হোমওয়ার্ক শেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা খেলার বদলে বাবার সঙ্গে সিনেমা দেখতেন — বাবা অফিস শেষে বাড়ি ফিরলে কিংবা সাপ্তাহিক ছুটিতে। এভাবে সিনেমা দেখতে দেখতেই নিজেকে বড়পর্দায় দেখার চিন্তা তাঁর মনে আসে।
ববির পরিবারের সদস্যরা চাইতেন, তাঁদের মেয়ে চিকিৎসক কিংবা আইনজীবী হোক। ববি বলেন, পরিবার থেকে সবাই চাইতেন তিনি চিকিৎসক হন — তাঁর এক বোন এখন চিকিৎসক। পরে পরিবার থেকে বলা হয়, তিনি যেন আইনজীবী হন। কিন্তু তাঁর ইচ্ছা সবসময়ই ছিল সিনেমার দিকে। এজন্য মা তাঁকে কড়া নজরে রাখতেন, যেন সিনেমার দিকে এগোতে না পারেন। পরে শিক্ষকের বাসায় পড়ার কথা বলে তিনি টিভিসির শুটিং করতেন; তবে সিনেমার শুটিং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার বলে তা লুকানো আরও কঠিন ছিল।
চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়ার গল্পও শুনিয়েছেন ববি। তিনি বলেন, অমিতাভ রেজা চৌধুরীর একটি টেলিকমের টিভিসি দেখে পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী তাঁকে ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ সিনেমার জন্য ফোন করেন; সেটি ছিল অনন্ত জলিলের প্রথম সিনেমা। ফোন করে বলা হয়, তাঁদের এমন কাউকে দরকার, যিনি শারীরিকভাবে ফিট, কারণ অনেক ফাইট করতে হবে। ববি ভাবেন, ঠিক আছে, চেষ্টা করে দেখবেন।
সুযোগ পাওয়ার পর ববি চুরি করেই স্ক্রিন টেস্ট দেন। পরে ফোন করে জানানো হয়, তাঁকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে যতটা না খুশি হন, তার চেয়ে বেশি চিন্তায় পড়ে যান — বাসায় এতদিন কীভাবে সামলাবেন। ববি বলেন, সালাহউদ্দীন লাভলু তাঁর পরিবারের অনেক চাপ সহ্য করেছেন।
বিষয়টি বাসায় জানানোর পর ববিকে অনেক চড়-থাপ্পড় খেতে হয়। তিনি বলেন, কান্নাকাটি করে তিনি বলেছিলেন, এটাই শেষ, এরপর আর সিনেমা করবেন না; জীবনে একটাই সিনেমা করবেন এবং আর কখনো কোনো কিছু নিয়ে অনুরোধ করবেন না — এটা তাঁকে করতে দেওয়া হোক। হাতে-পায়ে ধরে তিনি পরিবারকে রাজি করান এবং আশ্বস্ত করেন, তাঁর লেখাপড়ার কোনো ক্ষতি হবে না। এভাবেই তাঁর সিনেমার যাত্রা শুরু হয়।
এরপর ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ সিনেমার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন ববি। ফাইটিং অনুশীলন করতে শুরু করেন তিনি; কখনো পায়ে, কখনো পিঠে, কখনো ঘাড়ে ব্যথা পেয়ে বাসায় ফিরতেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১০ সালে।




