স্কটল্যান্ডে বনফায়ার নাইটে সহিংসতা: গ্লাসগোতে পুলিশের গাড়িতে আগুন, গ্রেপ্তার ৭ জন

স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বনফায়ার নাইটে সহিংসতার ঘটনায় গ্লাসগোতে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই রাতে জরুরি সেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজি ছোড়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
‘অপারেশন অ্যাম্বারলাইট’ নামের এই অভিযানে পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পর থেকে বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তার মোতায়েন।
গ্লাসগোর গ্রিনসাইড স্ট্রিটে রাত ৮টার কিছু আগে এক আহত ব্যক্তির খবর পেয়ে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা সেখানে যান। পুলিশ স্কটল্যান্ডের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এ সময় দুই দলকেই লক্ষ্য করে আতশবাজি ছোড়া হয়, এতে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায় ও গাড়িটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যাম্বুলেন্সের এক কর্মী সামান্য আহত হন।’
মুখপাত্র আরও বলেন, অপারেশন অ্যাম্বারলাইটের বিশেষায়িত সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয় এবং একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বজায় রয়েছে।
ক্লাইডব্যাংকে সাধারণ মানুষের দিকে আতশবাজি ছোড়া হয়। গ্লাসগোর নাইটসউড ও ক্যাসলমিল্ক এলাকা, আয়ারশায়ারের কুমনক, সাউথ ল্যানার্কশায়ারের লার্কহল এবং ওয়েস্ট লোথিয়ানের ব্ল্যাকরিজে দমকল কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এডিনবরার দক্ষিণে ময়লার বিনে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে অসামাজিক আচরণের মুখে পড়ে দমকল কর্মীদের সরে আসতে হয়। শহরের অন্যান্য এলাকায় পুলিশকেও লক্ষ্য করে আতশবাজি ছোড়া হয়।
ডান্ডির কার্কটন এলাকায় বড় একটি দল জড়ো হয়ে অবৈধভাবে আগুন জ্বালাচ্ছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানেও যায়।
বনফায়ার নাইটের পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পুলিশ বাহিনী থেকে সহায়তা নেয় পুলিশ স্কটল্যান্ড। অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট, হ্যাম্পশায়ার, হার্টফোর্ডশায়ার ও সাউথ ওয়েলসসহ দূরবর্তী এলাকার কর্মকর্তাদের স্কটল্যান্ডের রাস্তায় থাকার কথা ছিল।
স্কটিশ ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে আতশবাজি ও বনফায়ার সংক্রান্ত ৮০০টির বেশি কল পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হ্যালোইন থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত তারা আতশবাজি সংক্রান্ত ১ হাজার ২৪টি কল পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৮৩৩টি কলের চেয়ে বেশি। তবে সারা দেশে বিশেষায়িত গণশৃঙ্খলা সাড়া প্রয়োজন হয়—এমন ঘটনার সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



