চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন জানানো সব নিয়োগকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন কত, তা জানানো সব নিয়োগকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার নতুন চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় কোম্পানিগুলোকে বেতনের অঙ্ক উল্লেখ করা আইনি বাধ্যতামূলক করবে। শ্রমিক অধিকার প্রচারকদের মতে, এই ব্যবস্থা বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের সমান বেতন পেতে সাহায্য করবে।
বার্নহ্যাম বলেন, বেতন না জেনে চাকরিতে আবেদন করার হতাশা দূর করতেই এই উদ্যোগ। কর্মকর্তাদের মতে, বেতন প্রকাশ্যে জানা থাকলে যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাঁরা অন্যান্যের তুলনায় ন্যায্য বেতন পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি কর্মজীবন শুরু করা তরুণ হোন কিংবা পরিবার চালানোর চেষ্টা করা অভিভাবক—একটি চাকরিতে সময় ও শ্রম দিয়ে আবেদন করার আগে সেই চাকরি কত বেতন দেয়, তা জানার অধিকার আপনার আছে। সেজন্যই আমরা সব নিয়োগকর্তার জন্য বেতন জানানো আইনি বাধ্যতামূলক করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে বাধা ভাঙাই কাজের একমাত্র অংশ নয়। আমাদের প্রয়োজন ব্যবসাগুলো আরও দরজা খুলে দিক এবং তরুণদের কর্মজগতে প্রথম পা রাখার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দিক।’
ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) মহাসচিব পল নোয়াক বলেন, ‘যে কেউ চাকরি খুঁজেছেন, তিনি জানেন ‘প্রতিযোগিতামূলক বেতন’ লেখাটা পড়া কতটা হতাশাজনক।’
ক্ষমতায় আসার প্রথম কয়েক মাসে বার্নহ্যাম মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে এক ধারাবাহিক ‘ছোট সংস্কারের’ ঘোষণা দিয়েছেন, পাশাপাশি আরও মৌলিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ বিল থেকে ভ্যাট তুলে দেওয়া, বাস ভাড়া কমানো এবং বাজেটে ঘোষিত ১০০ পাউন্ড কাউন্সিল ট্যাক্স ছাড়।
প্রধানমন্ত্রী যাকে ‘৪০ বছরের নব্য-উদারনীতির’ অবসান বলছেন, তার জন্য একটি ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় কাজ করছেন তিনি। ওই পরিকল্পনায় উপযোগী সেবাগুলোকে (ইউটিলিটি) জনসাধারণের মালিকানায় আনার মতো আরও মৌলিক সংস্কার থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তিনি বলেছেন, আগামী মাসে আসার কথা থাকলেও পরিকল্পনাটি আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
বিদ্যমান সমান বেতন আইন আরও ভালোভাবে কার্যকর করতে গত জুলাইয়ে মন্ত্রীরা প্রথম একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া চালান। ওই নথিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য আরও বেশি সমতা সুরক্ষার প্রস্তাবও ছিল, তবে সেসব বিষয়ে মন্ত্রীরা এখনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা জানাননি।
এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী অ্যালান মিলবার্নের এক পর্যালোচনার জবাবে তরুণদের কর্মসংস্থানে সাহায্যের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পারসোনেল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের কম নিয়োগকর্তা চাকরির বিজ্ঞাপনে সবসময় বেতনের পরিসর প্রকাশ করেন, আর পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম নিয়োগকর্তা সবসময় নির্দিষ্ট বেতনের অঙ্ক জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞাপনে বেতনের বিবরণ না থাকলে তরুণদের পক্ষে কোন চাকরিতে আবেদন করবেন, তা বোঝা কঠিন হয় এবং কিছু প্রার্থীকে—নারীদেরসহ—কম বেতনের প্রস্তাব দেওয়া নিয়োগকর্তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
সরকার জানিয়েছে, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ৯৩ শতাংশ ব্যবসা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে ঠিক কোন তথ্য প্রকাশ করতে হবে, কোন আকারের কোম্পানিকে এই নিয়ম মানতে হবে এবং এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে মন্ত্রীরা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।




