যুক্তরাজ্যে চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন জানানো বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের

যুক্তরাজ্যে নতুন চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন কত, তা জানানো নিয়োগদাতাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁর সরকার আইনি বাধ্যবাধকতা আনবে, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নতুন পদে লোক নেওয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় বেতনের অঙ্ক উল্লেখ করে।
সরকারের ভাষ্যে, এই পদক্ষেপ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার সর্বশেষ ‘ছোট সংস্কার’। প্রচারকদের মতে, বেতন প্রকাশ্যে জানা গেলে তরুণ ও নারীরা বিশেষ করে সমান বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন।
বার্নহ্যাম বলেছেন, বেতন না জেনে চাকরিতে আবেদন করার হতাশা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘আপনি কর্মজীবন শুরু করা তরুণ হোন কিংবা পরিবার চালানো অভিভাবক, আবেদনে সময় ও শ্রম দেওয়ার আগেই ওই চাকরিতে কত বেতন মিলবে, তা আপনার জানা উচিত। সে কারণেই সব নিয়োগদাতার জন্য বেতন জানানো আমরা আইনি বাধ্যবাধকতা করব।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাধা দূর করাই কাজের এক অংশ মাত্র। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও দরজা খুলতে হবে এবং তরুণদের কর্মজীবনের প্রথম ধাপে এগোনোর অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দিতে হবে।
ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক পল নোয়াক এই ঘোষণাকে সমর্থন করে বলেছেন, যাঁরা চাকরি খুঁজেছেন, তাঁরা সবাই জানেন ‘প্রতিযোগিতামূলক বেতন’ লেখা দেখা কতটা হতাশাজনক।
চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পারসোনেল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকেরও কম নিয়োগদাতা সব সময় বিজ্ঞাপনে বেতনের পরিসর প্রকাশ করেন, আর নির্দিষ্ট বেতনের অঙ্ক সব সময় জানান পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম নিয়োগদাতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতনের তথ্য গোপন রাখা হলে কোন চাকরিতে আবেদন করা উচিত, তা বোঝা তরুণদের জন্য কঠিন হয়। একই সঙ্গে কোনো কোনো প্রার্থীকে, নারীদেরসহ, কম বেতনের প্রস্তাব দেওয়া নিয়োগদাতাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কয়েক মাসে বার্নহ্যাম মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে একের পর এক ‘ছোট সংস্কার’ ঘোষণা করেছেন। বিদ্যুতের বিল থেকে ভ্যাট তুলে দেওয়া, বাসভাড়া কমানো এবং বাজেটে ১০০ পাউন্ড কাউন্সিল ট্যাক্স রিবেটের ঘোষণা সেই তালিকায় রয়েছে।




