রাজবাড়ীর পদমদীতে অযত্নে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র

কালজয়ী উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা সাহিত্য সম্রাট মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত রাজবাড়ীর স্মৃতিকেন্দ্রটি এখন অযত্ন-অবহেলায় হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, জনবল সংকট ও পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদী গ্রামে অবস্থিত এই স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্মৃতিকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসনও। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত সংস্কার ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্মৃতিকেন্দ্রটিকে আবারও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা হোক।
উনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রথিতযশা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদী গ্রামে। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি সেখানেই কাটান।
পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণনগর ও কলকাতায় তার লেখাপড়া সম্পন্ন হয়। ১৯১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই লেখক। তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্ত্রী কুসুমের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
একসময় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছিল সাহিত্য সম্রাটের সমাধিস্থল। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘কথামালা’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হলে বিষয়টি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে সেখানে নির্মাণ করা হয় বর্তমান মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র।
তবে প্রতিষ্ঠার পরও স্মৃতিকেন্দ্রটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকির ঘাটতি রয়েছে। ফলে স্মৃতিকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্মৃতিকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।
প্রতি বছর ১৩ নভেম্বর মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। এ উপলক্ষে স্মৃতিকেন্দ্রটি ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের।
দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, স্মৃতিকেন্দ্রটি পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হলে এবং নিয়মিত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হলে এটি রাজবাড়ী জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।




