রংপুরের কাউনিয়ায় মাদরাসাশিক্ষক ফখরুল হত্যা: লক্ষ্মীপুর থেকে প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩
রংপুরের কাউনিয়ায় মাদরাসাশিক্ষক ফখরুল আলম রতনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও এসআরবি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ওই তিনজনকে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে রংপুরের কাউনিয়া থানায় আনা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কাউনিয়া উপজেলার শিবু কুটিপাড়ার মসলেম উদ্দিনের ছেলে মামলার প্রধান আসামি মজনু মিয়া (৩২), দুই নম্বর আসামি একই এলাকার মৃত আবজাল হোসেনের ছেলে লুৎফর রহমান (৪০) এবং তিন নম্বর আসামি মেহের আলীর ছেলে রিজু মিয়া (৩০)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার হরিচরণ লস্কর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে মাদরাসাশিক্ষক ফখরুল আলম রতনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শাম্মী আক্তার বাদী হয়ে মজনুকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মণ্ডল জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে ফখরুলকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর মামলার প্রধান আসামি মজনুসহ অন্যরা এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করেন।
আসামিদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করে পুলিশ ও এসআরবি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে এসআরবি ১৩ ও ১১ ক্যাম্পের অভিযানিক টিম এবং থানা পুলিশের অভিযানে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার শাকতলা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে প্রধান আসামি মজনুসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হচ্ছে। এর আগে ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; রিমান্ড শেষে তিনি এখন রংপুর কারাগারে রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, উপজেলার শিবু কুটিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নয়ন গ্রুপ ও কোহিনূর গ্রুপের মধ্যে হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছিল। দুই পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ফখরুল আলম রতন নয়ন গ্রুপের প্রধানের আপন বড় ভাই।




