ইইউর নিয়ম ভাঙার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার মেলঁশোঁর, ব্রাসেলসের সঙ্গে সংঘাতের আভাস
ফ্রান্সের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়মকানুনে আমূল সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা তাঁকে ব্রাসেলসের সঙ্গে সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ইশতেহারে এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে মেলঁশোঁর সমর্থন বেড়েছে।
মেলঁশোঁর দল ফ্রান্স আনবাওডের ইশতেহারে বলা হয়েছে, তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে ‘ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংঘাত প্রয়োজন হবে’।
ইশতেহার অনুযায়ী, নির্বাচিত হলে বর্তমান ইইউ নিয়মের যেসব অংশ তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দেবে, সেগুলো তিনি মানবেন না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপের জন্য একটি ‘নতুন চুক্তি’র প্রস্তাব দিয়ে মেলঁশোঁ ইইউ চুক্তিগুলো নতুন করে লেখা, ঋণ ও ঘাটতির সীমা বাতিল করা, জ্বালানি, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগের মতো জনসেবা খাতে প্রতিযোগিতার নিয়ম স্থগিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার আইন শিথিল করার কথা বলেছেন।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘আমরা জাতীয় পর্যায়ে আমাদের কর্মসূচি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করব। ফলে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংঘাত প্রয়োজন হবে।’
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের যুক্তি সরল। চুক্তি বদলের বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আমরা অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাব এবং একই সঙ্গে বাধা দেওয়া নিয়মগুলো মানব না। সমঝোতা হলে তা গণভোটে তোলা হবে।’
তবে এই প্রস্তাবগুলো ইউরোপীয় কাউন্সিলে ফ্রান্সের অংশীদারদের কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ কাউন্সিলে বর্তমানে অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল নেতাদের আধিপত্য রয়েছে।
ইশতেহারে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে (ইসিবি) ‘গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক রূপান্তরে অর্থায়নে কাজে লাগানোর’ কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে এ বছর মেলঁশোঁ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন ইসিবির কাছে থাকা ফ্রান্সের সরকারি ঋণের বড় একটি অংশ তিনি ‘আগুনে পুড়িয়ে দেবেন’—যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।




