জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বতে ১৭ বছরের সঙ্গীকে ফেলে নামার অভিযোগে ২১ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে তদন্ত

জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বত জুগস্পিৎসেতে ১৭ বছর বয়সী নারী সঙ্গীকে শূন্যের নিচের তাপমাত্রায় আটকে রেখে নেমে আসার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক জার্মান যুবকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে অস্ট্রিয়ার পুলিশ। যুবকের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা বিপন্ন করার সন্দেহে তদন্ত চলছে।
জুগস্পিৎসের উচ্চতা ২ হাজার ৯৬২ মিটার (৯ হাজার ৭১৮ ফুট)। কিশোরীটি জরুরি সেবায় ফোন করার পর পর্বতের প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার (৮ হাজার ২০০ ফুট) উচ্চতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের সময় কিশোরী হাইপোথার্মিয়ায় ভুগছিল। তাকে সীমান্তের ওপারে জার্মানির গার্মিশ-পার্টেনকিরচেনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রিয়ায় অন্য কোনো ব্যক্তির শারীরিক নিরাপত্তা বিপন্ন করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দুজন রোববার ভোরে অস্ট্রিয়ার টাইরল অঞ্চলের এরভাল্ড রিসোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল জুগস্পিৎসে সূর্যোদয় দেখা।
সেদিন সকালে তাপমাত্রা নেমেছিল মাইনাস ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বলে একজন পর্বত উদ্ধারকর্মী জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন।
আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে দুজন শীঘ্রই হাঁটুসমান তুষারে আটকে যান বলে অস্ট্রিয়ার প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৬২ মিটার চূড়ায় ওঠার তাদের পরিকল্পনা বদলে যায়।
একপর্যায়ে দুজন আলাদা হয়ে যান এবং ২১ বছর বয়সী যুবক একাই নিচে নেমে আসেন। তারা কেন আলাদা হলেন, তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলমান থাকার কথা উল্লেখ করে পুলিশের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাতজন পর্বত উদ্ধারকর্মী কিশোরীর ফোনে সাড়া দেন। শেষ পর্যন্ত একটি হেলিকপ্টার তাকে পর্বত থেকে তুলে নেয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে একটি প্রতিবেদন ইন্সব্রুকের পাবলিক প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হবে। কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।


