জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন বেশিরভাগ ইউরোপীয়, তবে বড় ত্যাগে রাজি নন: ইউগভ জরিপ

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তব বলে মনে করেন ইউরোপের বেশিরভাগ মানুষ। একটি জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বললেও তার জন্য খুব বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে চান না।
ছয়টি ইউরোপীয় দেশে চালানো ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, জার্মানিতে ৬৯ শতাংশ থেকে ফ্রান্সে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন জলবায়ু বদলাচ্ছে। মাত্র ১ থেকে ৪ শতাংশ এ কথা অস্বীকার করেছেন। আর ১৪ থেকে ২০ শতাংশ মনে করেন জলবায়ু বদলাচ্ছে, তবে তা মানব কর্মকাণ্ডের ফল নয়।
ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হওয়া মহাদেশ। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট জলবায়ু ভাঙন তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও ধ্বংসাত্মক ঝড়ের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়াচ্ছে।
তুরস্কে কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের কয়েক দিন আগে চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যে ৭৯ থেকে ৮৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশগুলো আন্তর্জাতিকভাবে একসঙ্গে কাজ করলে সংকটটি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর উত্তরদাতারা বেশি করে বলেছেন, জলবায়ু পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত জাতীয় পর্যায়ের বদলে ইইউ পর্যায়ে নেওয়া উচিত। ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানিতে এই মত দিয়েছেন ৫০ থেকে ৫৪ শতাংশ, ডেনমার্কে ৬১ শতাংশ এবং স্পেনে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা।
জরিপ করা প্রতিটি দেশে ৬৫ থেকে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে ২৩ থেকে ৪২ শতাংশ বলেছেন, তারা ‘খুবই উদ্বিগ্ন’। ইউগভ বলেছে, এই গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহের সময় উদ্বেগ বেড়েছিল।
ফ্রান্সে এপ্রিলে ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার কথা বলেছিলেন। আগস্টের মাঝামাঝি সেই হার বেড়ে ৮৩ শতাংশ হয় এবং গত মাসেও একই পর্যায়ে ছিল। ফ্রান্সে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ মানুষের হারও এপ্রিলের ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্টে রেকর্ড ৪২ শতাংশ হয়, যা গত মাসেও বজায় ছিল।
জার্মানিতে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ মানুষের হার এপ্রিলের ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্টে ৪০ শতাংশ হয়েছিল, তবে এখন তা কমে ৩১ শতাংশে নেমেছে। ডেনমার্কে উদ্বেগ তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল—‘উদ্বিগ্ন’ ৬৬ থেকে ৬৯ শতাংশ এবং ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ ২০ থেকে ২৩ শতাংশ।
ছয়টি দেশের উত্তরদাতাদের বেশিরভাগ, ৪৫ থেকে ৬৩ শতাংশ, মনে করেন সবচেয়ে খারাপ প্রভাব এড়াতে এখনো দেরি হয়ে যায়নি, তবে তার জন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের বদল দরকার হবে। মাত্র ১১ থেকে ২৪ শতাংশ মনে করেন, ইতোমধ্যেই দেরি হয়ে গেছে। আর ৯ থেকে ২০ শতাংশ বলেছেন, বর্তমান পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব ঠেকাতে যথেষ্ট হবে।
কোন জলবায়ু পদক্ষেপে সমর্থন আছে, সেই প্রশ্নে মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব না ফেলা পদক্ষেপগুলোই সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছে। বেশি গাছ লাগানো, জ্বালানি দক্ষতায় ভর্তুকি, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা এবং বড় নির্গমনকারীদের ওপর কর বসানো সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি শুল্ক বাড়ানো, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য সীমিত করা, বিমানভাড়ায় কর বসানো এবং নতুন পেট্রল ও ডিজেল গাড়ি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়েছে।


