চীনে বিয়ের হার ১৮ বছরের সর্বনিম্নে, নয় মাসে বিয়ে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার যুগলের

চীনে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিয়ের হার কমে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
চীনের বেসামরিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাই শুক্রবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইকাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৪৬ লাখ ৫০ হাজার যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
একই সময়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন ২০ লাখ ৮০ হাজার যুগল।
চীনে সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া বিয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় এই বড় ধস নতুন করে জনসংখ্যা হ্রাস ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সন্তান জন্মদান ও বিয়ে বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা কর্তৃপক্ষ একাধিক প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক ভর্তুকি, শিশু লালন-পালনে সহায়তা এবং সন্তান জন্মদানসংক্রান্ত চিকিৎসা খরচ কমানোর মতো উদ্যোগ।
এ ছাড়া যুবসমাজ, শিশু ও পরিবারের জীবনযাত্রা আরও সহজ করতে নগর পরিকল্পনা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জনসেবামূলক খাতে যুব উন্নয়ন কর্মসূচি যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও চীনে বর্তমানে শিশুদের চেয়ে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ফলে দেশের ওপর বয়স্কদের নির্ভরতার অনুপাত শিশুদের ছাড়িয়ে গেছে।
২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের মোট জনসংখ্যা কমেছে এবং জন্মহার এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই হ্রাসের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ মেয়াদে চীনের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমবে; শতাব্দীর শেষ নাগাদ এই বয়সী নারীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে ১০ কোটির নিচে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



