জাপোরিঝিয়ায় ত্রাণকেন্দ্রে রুশ হামলায় নিহত বেড়ে অন্তত ৫০, ধ্বংসস্তূপে আটকা আরও অনেকে
ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে রুশ হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ শুক্রবার জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও আটজনের মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের এই সংখ্যা বেড়েছে।
ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন পরে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা ৫৩ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধারকর্মীরা টানা পঞ্চম দিনের মতো নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গভর্নরের দেওয়া ৫৩ জনের সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
সোমবারের ওই হামলাটি চালানো হয় গ্রামের একটি সাবেক স্কুল ভবনে, যেখানে বেসামরিক মানুষ সাপ্তাহিক ত্রাণ নেওয়ার জন্য জড়ো হতেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম বিমান বোমা হামলার পর মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে গেলে সেখানে লক্ষ্য করে আরও নয়টি বোমা ফেলা হয়, আর তাতেই ধ্বংসের বড় অংশটি ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ বুধবার জানিয়েছিল, ৫৯ জন মানুষ নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন, যদিও তাঁদের কেউ কেউ এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে থাকতে পারেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও ৩৯ জন পর্যন্ত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন।
নিহতদের শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন। উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেও রুশ হামলার হুমকি অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকর্মীদের কাজ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং দুজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
জেলেনস্কি এই হামলাকে একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি মস্কোর যুদ্ধ থামাতে অস্বীকৃতিরই ইঙ্গিত দেয়। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনও বলেছে, এই হামলা সম্ভবত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
সোমবারের এই হামলার আগের দিনই রুশ-অধিকৃত ওলেশকি শহরে ছয় দিনের একটি যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছিল।
এর বাইরে বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে দুই পক্ষেই একটি শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বুধবার পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় চারজন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী ১০-১১ নভেম্বর আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে আগের দফাগুলোতে আলোচনায় তেমন অগ্রগতি হয়নি।




