ধর্ষণে দোষী রাসেল ব্র্যান্ডের আইনজীবী সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে নিজেই অভিযোগ জানালেন বার নিয়ন্ত্রকের কাছে

যুক্তরাজ্যের কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডের আইনজীবী ইয়ান উইন্টার কেসি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে তাঁর পেশাগত নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের পরপরই এক সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠার পর।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেলে লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের আদালতকক্ষের দরজার বাইরে, একদল সাংবাদিকের উপস্থিতিতে। উইন্টার সানডে টাইমসের সাংবাদিক রোজামুন্ড আরউইনের মুখোমুখি হন, যাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা এগিয়ে এসেছিলেন।
আরউইনের উদ্দেশে উইন্টার বলেন, তিনি যেন নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকেন। জবাবে আরউইন বলেন, ন্যায়বিচার হয়েছে বলে তিনি সন্তুষ্ট। তখন উইন্টার পাল্টা বলেন, ন্যায়বিচার হয়নি এবং আরউইনই তা নষ্ট করেছেন, সঙ্গে ‘অভিনন্দন’ বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে উইন্টার বলেন, তিনি নিজেকে বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ডের কাছে সোপর্দ করেছেন। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা দেখে, বিষয়টি যথাযথ যাচাইয়ের আওতায় আনার জন্য নিজের পেশাগত দায়িত্ব থেকেই তিনি এই স্ব-অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
ওই মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটে ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জুরি দোষী সাব্যস্ত করার কয়েক মুহূর্ত পরেই। চার সপ্তাহের বিচার শেষে এই রায় আসে। একই বিচারে ব্র্যান্ড আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ এবং একটি অশালীন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ থেকে খালাস পান।
ব্র্যান্ড তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং আইনজীবীর মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, তাঁকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি সংবাদমাধ্যমের ষড়যন্ত্রের শিকার।
টাইমস রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সানডে টাইমসের সম্পাদক বেন টেলর আরউইনের পক্ষে অবস্থান নেন। আরউইন পত্রিকাটির প্রধান সংবাদ প্রতিবেদক। টেলর বলেন, কোনো আইনজীবীকে এভাবে আচরণ করতে তিনি কখনো দেখেননি বা শোনেননি।
টেলর বলেন, সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে ব্র্যান্ডকে রোজামুন্ড আরউইন দোষী সাব্যস্ত করেননি; আটজন পুরুষ ও চারজন নারীর জুরি মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে বিবেচিত রায় দিয়েছেন। তাঁর মতে, আরউইনের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে পুরো মামলা, জুরি, বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, যা নিন্দনীয়।
বিচার চলাকালে উইন্টার যুক্তি দিয়েছিলেন, আরউইনসহ অন্যদের প্রতিবেদন পরিস্থিতি বিষাক্ত করে তুলেছে এবং ব্র্যান্ডের পক্ষে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিচারক জাস্টিস বেনাথান নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের কারণে বিচার বন্ধের আবেদন খারিজ করে দেন। বিচার-পূর্ব শুনানিতে ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, যেসব সাংবাদিক প্রথম ব্র্যান্ডকে যৌন শিকারি হিসেবে প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা অপরাধী এবং ২০২৩ সালের প্রতিবেদন বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অপরাধ হয়ে থাকতে পারে। বিচারক সেই আবেদনও নাকচ করেন এবং বলেন, আগের প্রতিবেদন দেখেননি এমন ব্যক্তিদের দিয়েই ব্র্যান্ডের বিচার করা সম্ভব।
৫১ বছর বয়সী ব্র্যান্ড ২০০৯ সালে ২১ বছর বয়সী এক ভক্তকে ধর্ষণ এবং ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে আলাদা ঘটনায় তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
ব্র্যান্ড বর্তমানে হেফাজতে আছেন এবং সোমবার তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে।




