প্যারিসে মধ্যাহ্নভোজে ল্য পেনকে ইইউ-পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের
ফ্রান্সের প্যারিসে নিযুক্ত একদল ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত বুধবার এক মধ্যাহ্নভোজে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেনকে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। বৈঠকটি সম্পর্কে সরাসরি জানেন এমন চারজন কর্মকর্তা পলিটিকোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মধ্যাহ্নভোজটি হয়েছিল অভিজাত নব্যধ্রুপদি ভবন হোটেল দ্য বোহারনেইসে, যা একসময় নেপোলিয়নের সৎপুত্রের বাড়ি ছিল এবং এখন প্যারিসে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বাসভবন। কর্মকর্তারা জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ল্য পেনের ভবিষ্যৎ ইইউ এজেন্ডা।
ল্য পেন ২০২৭ সালের নির্বাচনের দৌড়ে জনমত জরিপে স্বস্তিদায়কভাবে এগিয়ে আছেন। তিনি ব্রাসেলসে লড়ে ইইউ প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ছোট করার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর পরিকল্পনায় ইউরোপীয় কমিশনকে এমন একটি সচিবালয়ে পরিণত করার কথা রয়েছে, যার পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্য খাতে কোনো এখতিয়ার থাকবে না, পাশাপাশি ইইউ বাজেটে ফ্রান্সের অবদান ব্যাপকভাবে কমানোর কথাও রয়েছে।
মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদূতেরা ফ্রান্সের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করা আটটি দেশের — জার্মানি, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি, লুক্সেমবুর্গ, সুইজারল্যান্ড, মোনাকো ও অ্যান্ডোরার। এই দলটি সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ব্রুনো রতাইয়োর সঙ্গেও বৈঠক করেছে। আগামী মাসগুলোতে তারা নিজ নিজ দূতাবাসে কট্টর বাম প্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁসহ অন্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন।
মধ্যাহ্নভোজে ল্য পেনের সঙ্গে থাকা তাঁর এক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জানি না এতে তাঁরা আশ্বস্ত হলেন না উদ্বিগ্ন হলেন। তবে এটা নিশ্চিত, তাঁরা এখন নিজ নিজ রাজধানীতে জানাতে পারবেন ন্যাশনাল র্যালি কী করতে চায়।’
ল্য পেনকে মূলত ইইউ ছোট করার পরিকল্পনা ও দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরাজয়ের পর তাঁকে নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
অতীতে ন্যাশনাল র্যালি ট্রাম্পের সমর্থক হলেও দলটি ধীরে ধীরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছে। দলটির নেতা জর্দান বার্দেলা বুধবার বলেন, তাঁর দল এই ফলে প্রভাবিত নয়, এবং তিনি ইঙ্গিত দেন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তার অর্থনৈতিক পরিণতি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করেছে।
ল্য পেন অভিবাসন বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যার মধ্যে সীমান্তে কঠোর তল্লাশির কথাও রয়েছে। এই পদক্ষেপ বুধবার তাঁর সঙ্গে বৈঠক করা দেশগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে, কারণ অ্যান্ডোরা ও মোনাকো ছাড়া বাকি সবগুলোই শেনগেন মুক্ত চলাচল অঞ্চলের অংশ।
অংশগ্রহণকারী একটি দেশের এক কূটনীতিক বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতার মূল বিষয়গুলোতে ল্য পেনের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ আগ্রহ রয়েছে।
ওই উপদেষ্টা বৈঠকটিকে অত্যন্ত খোলামেলা মতবিনিময় বলে বর্ণনা করে বলেন, ল্য পেন সব জায়গায় যা বলেন এখানেও তাই বলেছেন এবং টেলিভিশনের তুলনায় কয়েকটি বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিতভাবে বলতে পেরেছেন। উপদেষ্টা আরও জানান, ল্য পেন নিয়মিত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে ডিসেম্বরে ল্য পেন ও তাঁর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা জর্দান বার্দেলা মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সম্ভাব্য নির্বাচনী জয়ের প্রস্তুতি হিসেবে এই কট্টর ডানপন্থী নেতারা ফ্রান্সের শীর্ষ ব্যবসায়ী নির্বাহীদের সঙ্গেও বৈঠক করছেন।



