ভোলায় ভাঙা সেতুতে সুপারি গাছের সাঁকো, দেড় দশক ধরে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন শত শত মানুষ

ভোলার লালমোহন উপজেলার একটি ভাঙা সেতু দিয়ে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় মানুষ। সেতুর ভাঙা স্ল্যাবের ওপর সুপারি গাছ ফেলে তৈরি করা সাঁকোই এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা।
সেতুটি লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকায় নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য ১২ মিটার। এই পথ দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
২০০৯ সালে গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১০ সালের দিকে সেতুর পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশের স্ল্যাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের উপায় না থাকায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানে সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে মই বানিয়ে কোনোমতে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
এই সেতু দিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিজ, পঞ্চম শ্রেণির জুনায়েদ ও চতুর্থ শ্রেণির জোবায়ের জানিয়েছে, সেতুটি দিয়ে পার হওয়ার সময় তাদের খুব ভয় হয়। তাদের মনে হয়, এই বুঝি সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যাবে। এলাকার সব শিক্ষার্থীকেই প্রতিদিন এই আতঙ্ক নিয়ে পথটি পার হতে হয়।
ইতোমধ্যে সেতুটি থেকে খালে পড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অনেকে আহত হয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, যা রোগীদের স্বজনদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মাতাব্বর, নুরে আলম ও কামাল সিকদার বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই পথে অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। পশ্চিম পাশের অংশটি রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু হয়ে আছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ এই সেতু দিয়েই তাঁদের চলাচল করতে হচ্ছে।
তাঁরা আরও জানান, এই পথ দিয়ে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ওই সেতুটিসহ উপজেলায় যত জরাজীর্ণ সেতু রয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সেতুটিসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সেতুটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।




