…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › জাতীয় › খবর
জাতীয়

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যের ডাক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পৃথক বাণী ও বক্তব্যে তাঁরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। তাঁর ভাষায়, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই সন্ধিক্ষণে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায় এবং এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে, যেখানে ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক্ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্ত করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এবং দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

অন্যদিকে ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল এবং দেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাক্ষণ ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ঐতিহাসিক ভুল।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পরাজিত সেই অপশক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তাঁর ভাষায় দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

একই দিন রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। জনগণের মনের ভাষা বুঝে দেশ পরিচালনা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকার উপেক্ষা করবেন, ইতিহাস তাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, বিরোধী মত দমন, দুর্নীতি, লুটপাট ও বিনা বিচারে হত্যার মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থেকেই ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়। ৭ নভেম্বর সিপাহিরা বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন, আর সাধারণ জনগণ তাতে সংহতি প্রকাশ করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৭ নভেম্বরকে শুধু সামরিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এর পেছনে ছিল একদলীয় শাসন ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনমনের ক্ষোভ। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও দলীয়করণ অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

জাতীয় বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

৭ নভেম্বর কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি সর্বস্তরের মানুষের অর্জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশের অরক্ষিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরা…

জাতীয়

রাস্তার সামান্য জায়গা নিয়ে বিরোধ, পিটুনিতে প্রাণ গেল চা-দোকানির

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. নাঈম খান (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। লাঠির আঘাতে তাঁর মাথা…

জাতীয়

বিমানবন্দর থেকে ইতালি প্রবাসীকে আনতে গিয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা, আহত ৯

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে একটি মাইক্রোবাস। এতে মাই…

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঢাকায় কনসার্ট ও শোভাযাত্রা: যানজটের শঙ্কায় সতর্ক ট্রাফিক পুলিশ
জাতীয়

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঢাকায় কনসার্ট ও শোভাযাত্রা: যানজটের শঙ্কায় সতর্ক ট্রাফিক পুলিশ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীতে একাধিক বড় আয়োজন ঘিরে কয়েকটি সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সং…