শিকাগো বিয়ার্সকে ইলিনয়ে রাখতে নতুন করে আলোচনায় এনএফএল, ইন্ডিয়ানায় সরে যাওয়ার পরিকল্পনায় টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) ঐতিহ্যবাহী দল শিকাগো বিয়ার্সকে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেই রাখতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এনএফএল কমিশনার রজার গুডেল ও লিগের অন্য কর্মকর্তারা ক্লাবের মালিক জর্জ ম্যাকক্যাসকি এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কেভিন ওয়ারেনকে সঙ্গে নিয়ে শিকাগোতে ইলিনয়ের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ওই বৈঠকে উভয় পক্ষ এমন একটি আইন প্রণয়নের পথ তৈরিতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে বিয়ার্স তাদের নতুন স্টেডিয়াম ইলিনয়ের আর্লিংটন হাইটসে, কিংবা হয়তো শিকাগোতেই নির্মাণে রাজি হতে পারে।
অথচ মাত্র কয়েক মাস আগের চিত্র ছিল উল্টো। আগস্টে বিয়ার্স ঘোষণা দিয়েছিল, নতুন স্টেডিয়াম প্রকল্প নিয়ে তাদের ‘একমাত্র মনোযোগ’ এখন প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য ইন্ডিয়ানার দিকে। ইলিনয়ের আইনপ্রণেতারা কাঙ্ক্ষিত কর-ছাড় ও অবকাঠামোগত নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্লাবটি ইন্ডিয়ানার হ্যামন্ডের দিকে ঝুঁকেছিল বলে জানা যায়।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিয়ার্স বলেছে, ‘শিকাগো বিয়ার্স আমাদের ভক্ত, শিকাগোল্যান্ড সম্প্রদায় ও দলের জন্য বিশ্বমানের একটি স্টেডিয়াম ও বহুমুখী জেলা নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ইন্ডিয়ানার স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে হ্যামন্ডে আমাদের স্টেডিয়াম উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া যায়; সেখানে ওলফ লেক এলাকার দুটি স্থান নিয়ে আমরা যাচাই-বাছাইয়ের শেষ ধাপে রয়েছি।’
একই বিবৃতিতে ক্লাবটি ইলিনয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক আগ্রহের প্রশংসা করে বলেছে, ‘একই সঙ্গে ইলিনয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক সম্পৃক্ততাকে আমরা স্বাগত জানাই, যাতে এমন আইন খোঁজা যায় যেখানে আমরা আমাদের মতামত দিতে পারি। আগামী সপ্তাহগুলোতে উভয় নেতৃত্বের সঙ্গেই ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা করছি।’
ইলিনয়ের গভর্নর জে.বি. প্রিটজকার চলতি সপ্তাহে বলেছেন, বিয়ার্সকে ইলিনয়ে রাখার লক্ষ্যে আইন আসছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা শিকাগো বিয়ার্সের সঙ্গে কাজ করছি, আর্লিংটন হাইটস শহর এবং শিকাগো শহরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কাজ করছি—বিয়ার্স কোথায় স্টেডিয়াম বানাতে চায় এবং সেই আইনটি কেমন হবে, তা নিয়ে।’
প্রিটজকার জানান, প্রস্তাবিত আইনটি নভেম্বরের মাঝামাঝি ও ডিসেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় ভেটো অধিবেশনে উত্থাপিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, বিয়ার্সের জন্য কাজ করবে এমন একটি আইন থাকবে। এরপর স্টেডিয়াম কোথায় হবে, সেটা বিয়ার্সের সিদ্ধান্ত; আমরা শুধু নিশ্চিত করতে চাই, সেই সুযোগটা যেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেই থাকে।’
এর আগে গত ৫ জুন বিয়ার্সের বোর্ড ইন্ডিয়ানা প্রকল্পটি ‘এগিয়ে নেওয়ার’ পক্ষে ভোট দিয়েছিল এবং বলেছিল, এটি ওই অঞ্চলকে বদলে দেবে। আগস্টে কেভিন ওয়ারেন বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র মনোযোগ হ্যামন্ড, ইন্ডিয়ানায় বিশ্বমানের স্টেডিয়াম ও বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করা।’ তিনি ইন্ডিয়ানার প্রস্তাবকে ‘চমৎকার চুক্তি’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
শত বছরের বেশি পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে অন্য অঙ্গরাজ্যের কাছে হারানোর সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার পরই ইলিনয়ের আইনপ্রণেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ক্লাবের প্রকাশ্য অবস্থান অনুযায়ী, হ্যামন্ডে যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং সেখানে স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি বহাল রয়েছে।
বিয়ার্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ক্লাবের জন্য থাকা সব বিকল্প খতিয়ে দেখা তাদের দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা। তাদের লক্ষ্য এমন একটি রূপান্তরমূলক প্রকল্প গড়া, যা বৈশ্বিক আয়োজন আকর্ষণ করবে এবং পুরো শিকাগোল্যান্ডে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বয়ে আনবে।


