এআই দিয়ে সিইও সেজে ১২ কোটি ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তিনজন অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও আইনজীবীদের কণ্ঠ ও ছবি নকল করে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নতুন করে প্রকাশিত অভিযোগপত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত তিনজন হলেন জ্যাকব সোয়াল, শ্যারন হাজান ও গাই শিটরিট। তাঁরা এআই দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির নির্বাহী ও আইনজীবীদের কণ্ঠ ও ছবি বদলে ও নকল করে কর্মীদের বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাতে রাজি করাতেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সোয়াল ও হাজানকে গত গ্রীষ্মে স্পেনে গ্রেপ্তার করা হয়, আর শিটরিটকে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রতারণা চলেছে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে নিজেকে কোনো কোম্পানির নির্বাহী সাজিয়ে কর্মীদের বলতেন, গোপনীয় আর্থিক লেনদেনে তাঁদের সাহায্য দরকার। এরপর তাঁদের একটি বড় আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হতো। পরে অভিযুক্তরাই সেই আইনজীবী সেজে কর্মীদের বড় অঙ্কের অর্থ ওয়্যার ট্রান্সফার করতে বলতেন।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে মোট ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিসৌরিতে সদর দপ্তর থাকা একটি হাসপাতাল ব্যবস্থা থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার, রোড আইল্যান্ডের একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২৭ লাখ ডলার, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হাসপাতাল ব্যবস্থা থেকে প্রায় ৩০ লাখ ডলার, ম্যাসাচুসেটসের একটি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ৪৬ লাখ ডলারের বেশি এবং ফ্লোরিডার একটি পোষা প্রাণীর খাবারের কোম্পানি থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি থেকেও ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
টাকা পাঠানো হতো যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। টাকা পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করতেন, যাতে চুরি করা অর্থের উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ লুকানো যায় এবং নিজেদের ও সহযোগীদের মধ্যে ভাগ করা যায়—বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই বলা হয়েছে।
সোয়ালের ছদ্মনাম ছিল ‘সেবা ক্লার্ক’ ও ‘রকি বালবোয়া’, আর হাজান ‘সুপারম্যান ক্যাশ’, ‘ফ্যাট বয়’ ও ‘রন’ নামে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তবে জনগণের এটাও বোঝা দরকার যে কেউ কেউ এই প্রযুক্তিকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চাইতে পারে।
এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক জেমস সি বার্নাকল জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেছেন, সোয়াল, হাজান ও শিটরিটের কথিত এই চক্র দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে উন্নত প্রযুক্তিকে বড় আকারের প্রতারণায় কাজে লাগানো যায়। তিনি বলেন, অপরাধীরা নতুন প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলেও এফবিআই তাদের শনাক্ত, তদন্ত ও প্রতিহত করতে নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত মানিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে ওয়্যার প্রতারণার ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন অভিযোগ ও গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।




