গোমস্তাপুরের বাগানে নভেম্বরেও থোকা থোকা আম, সায়ন বিক্রিতে আয় প্রায় ৫ লাখ টাকা

আমের মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বাজার থেকে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি ও আম্রপালি একে একে বিদায় নিয়েছে। অথচ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার খয়রাবাদে ঢুকলে এখনো গাছে থোকা থোকা আম ঝুলতে দেখা যায়।
কোনো গাছে কাটিমন, কোনো গাছে কল্যাণভোগ আম ঝুলছে। আবার এমন কিছু আম রয়েছে, যার জাতের নাম এখনো বাগানের মালিক নিজেও জানেন না। নভেম্বর মাসেও গাছভরা আম দেখে পথচারীদের অনেকে থমকে দাঁড়ান এবং প্রশ্ন করেন, এখনো আম আছে কিনা।
এই বাগানের পেছনে রয়েছেন রবিউল ইসলাম রবি। প্রায় তিন দশক ধরে গাছ, চারা, সায়ন ও আমের জাত নিয়ে কাজ করে তিনি ১২ বিঘার একটি আমবাগান গড়ে তুলেছেন। তাঁর বাগানে শুধু প্রচলিত জাত নয়, অসময়ে ফলন দেওয়া জাত, দেশের বাইরে থেকে আনা জাত এবং পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো নানা জাত রয়েছে।
বাগানটিতে রয়েছে কাটিমন, ক্ষীরশাপাতি, গৌড়মতি, ইলামতি, স্যান্ডি, চিয়াইমাই, রেড পালমার, কিং অব চাপাতি, হানিবিউ, বারি-৭, আম্রপালি, বারি-৪ ও কল্যাণভোগসহ নানা জাতের আম।
সায়ন বিক্রি এখন তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে কল্যাণভোগের সায়ন বিক্রি করে তাঁর আয় হয়েছিল ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।
রবিউল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৭ সালে এসএসসি পাস করার পর ছাত্রজীবন থেকে নার্সারির ব্যবসা শুরু করি। আস্তে আস্তে সঠিক আমের জাত নির্ণয়ের জন্য মাদার গাছ তৈরি করতে থাকি। তখন থেকে বাণিজ্যিক আমের বাগান করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে থাকি।’
তিনি জানান, ২০১৮ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন শুধু নার্সারি নয়, নিজেই বাণিজ্যিকভাবে আমবাগান করবেন। তখন মাত্র দেড় বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে কল্যাণভোগ আমের সায়ন করেন এবং নিজের হাতে গাছগুলোর পরিচর্যা করেন। এরপর একে একে অন্য জাতের সায়নও গ্রাফটিং করতে থাকেন।
একটি জাতের ফলন ভালো হলে তিনি সেটির সংখ্যা বাড়িয়েছেন। নতুন জাতের খবর পেলে সায়ন সংগ্রহ করেছেন। আবার কোনো জাত নিয়ে সন্দেহ থাকলে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গাছ লাগিয়ে ফলনের অপেক্ষা করেছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে বাগানের আয়তন বেড়ে আজ ১২ বিঘায় পৌঁছেছে।
রবির বাগানে একই ধরনের গাছের সারির বদলে বিভিন্ন জাতের গাছ পাশাপাশি রয়েছে। কোনো জাত দ্রুত ফল দেয়, কোনো জাত দেরিতে ফল দেয়। কোনো জাতের আম বাজারে প্রচলিত, আবার কোনো জাত সম্পর্কে স্থানীয় কৃষকেরা খুব কমই জানেন।
তিনি দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন জাতের সায়ন সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে নিজের বাগানে লাগাচ্ছেন। রবি বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে নতুন নতুন জাতের সায়ন নিয়ে এসে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছি। কয়েকটি জাত নিয়ে এখনো কাজ চলছে।’
তাঁর উদ্দেশ্য, কোন জাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়ায় ভালো ফলন দেয়, সেটি খুঁজে বের করা। রবিউল ইসলামের স্বপ্ন, শুধু আমের মৌসুমেই নয়, দেশের মানুষ যাতে সারা বছরই কম দামে আম খেতে পারেন।




