সিলেট টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি, ২৪২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করল বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। দিনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
গতকাল ব্যাকফুটে থেকে আজ ব্যাট করতে নেমে শুরুটাও ভালো ছিল না। মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসরা হতাশায় ফেলে বিদায় নেন।
এরপর তাওহীদ হৃদয় দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দিনে তুলে নেন ডাবল সেঞ্চুরিও।
শেষ পর্যন্ত অন্যপ্রান্ত হতে বাকি ব্যাটাররা আউট হলেও হৃদয়কে আউট করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৪২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।
ডাবল সেঞ্চুরির পাশাপাশি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েছেন হৃদয়। সিলেটের মাঠে তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকল।
এমন ব্যাটিংয়ের পর টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স থেকে বাহবা পাচ্ছেন হৃদয়।
দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, ‘আমরা ছেলেদের সব সময় বলি, সুযোগ এলে সেটা লুফে নিতে হবে এবং ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। তুমি যখন মাঠে থাকবে, তখন দায়িত্ব তোমার। দলের জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করে যেতে হবে। হৃদয়ের কাছে আমাদের যা প্রত্যাশা ছিল, আজ সে সবকিছুই করে দেখিয়েছে।’
‘হৃদয়ের ইনিংসটি অসাধারণ ছিল। সত্যিই অবিশ্বাস্য একটি ইনিংস। বাউন্ডারিতে ফিল্ডার থাকার পরও সে চার-ছক্কা মেরেছে। সব মিলিয়ে হৃদয়ের প্রচেষ্টা ছিল দুর্দান্ত। সে ম্যাচের পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝেছে। কখন শট খেলতে হবে, কখন শেষের তিন ব্যাটারকে স্ট্রাইক দিতে হবে, সবকিছুই দারুণভাবে সামলেছে।’
মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দ্রুত বিদায়ের পর বাংলাদেশ চাপে পড়েছিল। সেই চাপ থেকে দলকে টেনে তোলেন হৃদয়। এক প্রান্ত আগলে রেখে তিনি দলকে ভালো অবস্থানে পৌঁছে দেন।
অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা একে একে ফিরে গেলেও হৃদয় ছিলেন অবিচল। দিনের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তিনি প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে তিনি দলের জন্য বড় ইনিংস খেলতে পারেন।
সিলেটের মাঠে এই ডাবল সেঞ্চুরি হৃদয়ের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। প্রথম সেঞ্চুরির দিনেই ডাবল সেঞ্চুরি—এমন কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিরল।
তৃতীয় দিনের শেষে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩ রানে পিছিয়ে আছে। হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ এখন ম্যাচে চালকের আসনে।

