ধ্বংসের পথে সাতক্ষীরার নকিপুর জমিদারবাড়ি: ২১২ ফুটের প্রাসাদ এখন আগাছায় ঢাকা

একসময় এখানে ছিল তিনতলা বিশাল প্রাসাদ। সারি সারি স্তম্ভ, খিলান আর কারুকাজে সাজানো ভবন। সামনে বিস্তীর্ণ মাঠ, পাশে বড় পুকুর, পাকা ঘাট, নহবতখানা আর জোড়া শিবমন্দির। জমিদারি ঐশ্বর্যের সেই স্মৃতি এখন ধ্বংসের পথে। ছাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে ইট। কোথাও আগাছার আড়ালে হারিয়ে গেছে স্থাপনার চিহ্ন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর সদর থেকে পূর্ব দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার এগোলেই নকিপুর জমিদারবাড়ি। গত সোমবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম অংশের কিছু স্তম্ভ ও খিলান এখনো টিকে আছে। পূর্ব পাশের দীর্ঘ ভবনটির অধিকাংশ দেয়াল ধসে পড়েছে। একসময় ২১২ ফুট দীর্ঘ এই ভবনের চারপাশ এখন কলাগাছ, ঘাস ও আগাছায় ঢাকা।
প্রাসাদের সামনের মাঠের দক্ষিণ পাশে পাশাপাশি দুটি শিবমন্দির। চারচালা ঘরের আদলে তৈরি মন্দির দুটি তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে। তবে পুকুরের ঘাটসংলগ্ন অষ্টকোনা আকৃতির দোতলা নহবতখানাসহ পুরো প্রাঙ্গণই এখন অবহেলার ছাপ বহন করছে।
জমিদারবাড়ির পাশের বাসিন্দা নয়ন হোসেন (২৫) ছোটবেলা থেকেই প্রাসাদের এই দশা দেখে আসছেন। তিনি বলেন, অন্তত ১০ বছর আগেও যদি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হতো, তাহলে স্থাপনাটির অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব হতো।
নয়ন জানান, সংরক্ষণ করা গেলে পুরো এলাকাটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারত। প্রাসাদের ভেতরে আনোয়ারা বেগম (৫৬) ও ফাতেমা বেগম (৬২) নামের দুই নারী থাকেন। তাঁদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে, সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার অনেকটাই রক্ষা করা যেত। এখনো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।



