সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন, লেনদেনে শীর্ষে বস্ত্র খাত
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সমাপ্ত সপ্তাহে সবকটি মূল্যসূচকের পতন ঘটেছে।
ডিএসইর লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় চার পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা এর পূর্ববর্তী সপ্তাহ শেষে ছিল ৫ হাজার ৪১৭ পয়েন্ট।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ২ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যার বিপরীতে এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। একই সময়ে অপর পুঁজিবাজার সিএসইতেও সামগ্রিক লেনদেনের চিত্রে কিছুটা শ্লথগতি লক্ষ্য করা গেছে।
ডিএসইর অন্যান্য সূচকের ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দৃশ্যমান ছিল। সপ্তাহশেষে বাছাই করা ৩০টি ভালো কোম্পানির ডিএস-৩০ সূচক আগের সপ্তাহের ২ হাজার ৮৭ পয়েন্ট থেকে ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৯ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
পাশাপাশি ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক তিন পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ১ হাজার ৫১ পয়েন্ট।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৫টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডের মধ্যে ১৭৮টির বাজারদর বেড়েছে, কমেছে ১৬৩টির এবং ৪৪টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত ছিল; এ ছাড়া ২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি।
সূচকের অবনমন ঘটাতে মূলত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইসলামী ব্যাংক, গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইউসিবির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাস বড় ভূমিকা রেখেছে।
সাপ্তাহিক লেনদেনে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনের সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ নিজেদের দখলে নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল এই খাতটি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের অংশীদারত্ব ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন নিশ্চিত করে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। এ ছাড়া মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ২ শতাংশ ওষুধ ও রসায়ন খাতে এবং আট শতাংশ প্রকৌশল খাতে সম্পন্ন হয়েছে।
রিটার্নের হিসাবে সিংহভাগ খাতই ইতিবাচক ধারায় ছিল; যার মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ মূলধনি মুনাফা এসেছে বস্ত্র খাতে। এর পাশাপাশি সিরামিক খাতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তিতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন পাওয়া গেছে।
বিপরীতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে সাড়ে ছয় শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে সূচকের নিম্নমুখিতা বহাল ছিল। এক্সচেঞ্জটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই দশমিক ৮৪ শতাংশ হারিয়ে ১৪ হাজার ৫৭৬ পয়েন্ট থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৩ পয়েন্টে।
একইভাবে সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮ হাজার ৯৬০ পয়েন্ট থেকে ৮ হাজার ৮৭৯ পয়েন্টে নেমে সপ্তাহ শেষ করেছে।




