চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে কংগ্রেসের প্রশ্নের মুখে এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াংয়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা এক নারী চীনের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। ওই নারীর সঙ্গে জেনসেন হুয়াংয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও ধারণা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে আগ্রহী হয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি এই তথ্য জানিয়ে আরও বলে, জেনসেন হুয়াংয়ের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ওই নারীকে নিয়োগ করেছিল চীনের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, অ্যালিস হুয়াং নামের ওই নারী এশিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেগাস্পিড ইন্টারন্যাশনালের একজন নির্বাহী। মার্কিন গোয়েন্দারা তাঁর ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন। পরে এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একটি গোয়েন্দা স্মারকের মাধ্যমে জানানো হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালিস হুয়াং বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির চিপ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল চীনা গোয়েন্দা সংস্থাটি। পাশাপাশি এনভিডিয়াকে তাদের সবচেয়ে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চীনের বাজারে বিক্রিতে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে অ্যালিসের কখন বা কীভাবে পরিচয় হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে অ্যালিস হুয়াংয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও কথিত চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে জেনসেন হুয়াংয়ের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বৃহস্পতিবার হাউস সিলেক্ট কমিটি অন চায়না এক বিবৃতিতে জানায়, জেনসেন হুয়াংকে যৌথভাবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মেগাস্পিডের নির্বাহী অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে জেনসেন হুয়াংয়ের যোগাযোগ এবং বিদেশি প্রতিপক্ষের গোয়েন্দা তৎপরতা থেকে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের কথা চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
মেগাস্পিড এনভিডিয়ার ক্লাউড পার্টনার নেটওয়ার্কের একটি প্রতিষ্ঠান। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এ কোম্পানি এনভিডিয়ার কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কেনে এবং এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে কম্পিউটিং সক্ষমতা ভাড়া দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে এনভিডিয়া জানায়, তাদের ক্লাউড পার্টনাররা যুক্তরাষ্ট্রের আইন পরিবর্তনের জন্য কোনো অনুরোধ করে না কিংবা চীনে পণ্য বিক্রির পক্ষে তদবিরও করে না। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এনভিডিয়ার ক্লাউড পার্টনারদের মাধ্যমে কেউ গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে তাতে সফল হওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ, এনভিডিয়া গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদান করে না এবং তাদের কাছেও এ ধরনের তথ্য নেই।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে অ্যালিসের সম্ভাব্য প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এনভিডিয়া তার আগের বক্তব্যের কথা জানায়। এর আগে জেনসেন হুয়াং বলেছিলেন, অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সাধারণ ব্যবসায়িক সম্পর্ক।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে মেগাস্পিডের সঙ্গে এনভিডিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্কের পক্ষে কথা বলেন জেনসেন হুয়াং। তিনি এ সম্পর্ককে ‘স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক কিছু নয়’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মেগাস্পিড যেন অবৈধভাবে এনভিডিয়ার এআই প্রসেসর চীনে পাঠাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যাচাই করা হয়েছে।




