যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইদের ‘হাবিবি প্যাক’
মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইদ ‘হাবিবি প্যাক’ নামে একটি রাজনৈতিক কর্মকমিটি (পিএসি) চালু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার কয়েক দিন পর তিনি এ কমিটি গঠন করলেন।
বৃহস্পতিবারের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) নথি অনুযায়ী, হাবিবি প্যাক আল-সাইদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি নেতৃত্ব পিএসি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ধরনের কমিটি একজন রাজনীতিবিদের নিজের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে আলাদা।
রাজনৈতিক কর্মকমিটি বা পিএসি হলো এমন সংগঠন, যারা প্রার্থীদের পক্ষে বা বিপক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে।
‘হাবিবি’ একটি আরবি স্নেহসূচক শব্দ, যার অর্থ ‘আমার প্রিয়’ বা ‘আমার প্রিয়তম’। আল-সাইদ প্রচারণার পথে প্রায়ই এই শব্দটি ব্যবহার করতেন। ডেট্রয়েটে দেওয়া তার বিজয় ভাষণেও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সরাসরি উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘জেডি, হাবিবি, এতে এক সুস্বাদু বিদ্রূপ আছে যে জানুয়ারিতে আমাকে শপথ পড়াতে তুমি সাংবিধানিকভাবে বাধ্য।’
মঙ্গলবারের ভোটের পর থেকে নবনির্বাচিত বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব পিএসি নিবন্ধন করেছেন। এফইসির নথি অনুযায়ী, তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যারিজোনার কংগ্রেসম্যান-নির্বাচিত আমিশ শাহের ‘প্যাকস্ট্রিট বয়’, আইওয়ার সিনেটর-নির্বাচিত জশ টুরেকের ‘হুইলপ্যাক’ এবং নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর-নির্বাচিত রয় কুপারের ‘ওয়ান এনসি প্যাক’।
ওপেনসিক্রেটসের মতে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনপ্রণেতারা নেতৃত্ব পিএসি ব্যবহার করে সহকর্মীদের মধ্যে প্রভাব বাড়ান এবং অন্য সদস্য, দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটিকে অর্থ দিয়ে নেতৃত্বের পদ বা কমিটির সভাপতির দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেন।
২০২৪ সালের নির্বাচন চক্রে নেতৃত্ব পিএসিগুলো ফেডারেল প্রার্থীদের ৭৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এর বেশিরভাগই গেছে রিপাবলিকানদের কাছে, যদিও একক বৃহত্তম দাতা ছিল একটি ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্ব পিএসি।
মিসরীয় অভিবাসীদের ছেলে আল-সাইদ রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রচারণায় ট্রাম্প, ভ্যান্স ও সিনেটর টেড ক্রুজ তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।
ভোটের কয়েক দিন আগে মিশিগানের ওয়ায়ানডট শহরে এক সমাবেশে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-সাইদ বলেন, করদাতাদের অর্থ দেশে জীবন বাঁচাতে ব্যয় করা উচিত, গণহত্যা বা বর্ণবাদে জড়িত বিদেশি সরকারের কাছে পাঠানো উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পকে হারানোই যথেষ্ট নয়; তাকে জন্ম দেওয়া ব্যবস্থাকেও বদলাতে হবে।
রাজনীতি থেকে অর্থ দূর করা ছিল তার অন্যতম কেন্দ্রীয় অঙ্গীকার। বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, অর্থ ও বহুজনের লড়াইয়ে ‘বহুজন জিততে পারে’।
এবারের নির্বাচন রেকর্ডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে পড়েছে। এফইসির তথ্যের ওপেনসিক্রেটসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোট ব্যয় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০২২ সালের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি।
সুপার পিএসির মাধ্যমে চালিত বাইরের ব্যয় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। অজ্ঞাত দাতাদের কাছ থেকে আসা তথাকথিত ‘ডার্ক মানি’ ইতিমধ্যে কমপক্ষে ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ ২০২৪ সালের ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।




