নওগাঁয় ভেজাল সার-কীটনাশকের কারখানা সিলগালা, একজনের কারাদণ্ড
নওগাঁর মহাদেবপুরে নকল সার ও কীটনাশক তৈরির অভিযোগে ‘এসডি এগ্রোভেট’ নামের একটি কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার ও শিবগঞ্জ দরিয়াপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), এসআরবি এবং পুলিশের একটি টিম যৌথভাবে এই অভিযানে অংশ নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে রায় দেন মহাদেবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ।
অভিযান শেষে অবৈধ কারখানাটি সম্পূর্ণ সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েক টন নকল সার, কীটনাশক এবং ভেজাল পণ্য তৈরির বিভিন্ন ক্ষতিকর সরঞ্জাম ও রাসায়নিক জব্দ করে প্রশাসন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শিবগঞ্জ গ্রামের মৃত মোতার হোসেনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া কারখানার অপর মালিক তাঁর ভাই মোহাম্মদ শাহিনুর আলম উপস্থিত না থাকায় বালাইনাশক আইন, ২০১৮-এর ৩১(১) ধারায় তাঁর স্ত্রী হাসনাত জাহান পাপিয়ার বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ গ্রামের মৃত মোতার হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলে মোহাম্মদ শাহিনুর আলম ও দেলোয়ার হোসেন ‘এসডি এগ্রোভেট’ নামে দুটি পৃথক কারখানা চালিয়ে আসছিলেন।
গ্রামের ভেতরের একটি বাড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গোপনে বোরন, জৈব সার, সাইবার মেথিন এবং তেলাপোকা মারার চকসহ মানহীন ও ভেজাল পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব ক্ষতিকর পণ্য কিনে স্থানীয় কৃষকেরা চরম প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বোরন ও জৈব সার তৈরির অনুমোদন থাকলেও সাইবার মেথিন এবং তেলাপোকা মারার চক তৈরির কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। তাঁদের অনুমোদিত পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, অভিযানে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় এবং ভেজাল রোধে এমন অভিযান ভবিষ্যতে আরও অব্যাহত থাকবে।



