খাওয়া নিয়ে ভুল করলেও পরের দিন নতুন করে শুরু করা যায়, বললেন স্ট্যানফোর্ড বিজ্ঞানী

সুস্থ জীবনযাপন অনেকেই যতটা জটিল মনে করেন, আসলে ততটা জটিল নয়—এমনটাই বলেছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার গার্ডনার। তাঁর মতে, নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা না করে প্রতিদিন ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাস উন্নত করাই আসল কাজ।
গার্ডনার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানী এবং 'ফুড সেন্স: হোয়াট টু ইট অ্যান্ড হোয়াই' বইয়ের লেখক। তিনি বলেন, বিষয়টি মানুষ যতটা ভাবে, তার চেয়ে অনেক সহজ।
তিনি ৮০/২০ নিয়মকে সুস্থ খাদ্যাভ্যাসের একটি ভালো কাঠামো বলে মনে করেন। এই পদ্ধতিতে প্রায় ৮০ শতাংশ সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া হয়, আর বাকি ২০ শতাংশ সময় পছন্দের খাবারে ছাড় থাকে।
গার্ডনার স্ট্যানফোর্ড প্রিভেনশন রিসার্চ সেন্টারেও কাজ করেন। সেখানে তাঁর কাজের একটি বড় অংশ হলো, সবাই জানে এমন নিয়ম—স্বাস্থ্যকর খাওয়া, বেশি ব্যায়াম করা, ধূমপান কমানো—মানুষ কেন মেনে চলে না, সেটি বোঝার চেষ্টা করা।
তিনি সব নতুন ওয়েলনেস ট্রেন্ড অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, অনেক সময় সেগুলো তথ্যভিত্তিক হয় না।
তিনি কোনো একটি খাদ্যগোষ্ঠী পুরোপুরি বাদ দেওয়া বা কঠোর ডায়েট অনুসরণের পক্ষে নন। বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পক্ষে তিনি।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উন্নত করার একটি সহজ উপায় হলো বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া। আর খাবারে আঁশ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
ডালজাতীয় খাবারের ওপর তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, এগুলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যের একটি অব্যবহৃত উপাদান। এশীয় সংস্কৃতিতে প্রচুর টেম্পে, টফু, এডামামে ও সয়া খাওয়া হয়, লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতিতে শিম ও শস্যজাত নানা পদ খাওয়া হয়, আর ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রচুর মসুর ডাল খাওয়া হয়।
ডালজাতীয় খাবার সাধারণত সস্তা ও বহুমুখী হয়। এগুলো প্রোটিনের ভালো উৎস, পাশাপাশি আঁশেরও ভালো উৎস—যা অনেকেই যথেষ্ট পরিমাণে খান না বলে গার্ডনার উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমেরিকানরা অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খান। অনেকেই জানেন কোনটি স্বাস্থ্যকর, তবু তাঁরা কালো কফির বদলে চিপস, ক্যান্ডি, কেক, স্ন্যাকস আর মোচা ফ্র্যাপুচিনো বেছে নেন।
অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে তাঁর মন্তব্য, মানুষ আসলে জানে না যে সেগুলোতে প্রায় ২০০টি কসমেটিক অ্যাডিটিভ থাকে।
কোনটি স্বাস্থ্যকর, তা নির্ধারণে প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ বলে গার্ডনার উল্লেখ করেন। কফি ও চা—দুটোই নিজে থেকে সমস্যাজনক নয়; দুটোতেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। সমস্যা হয় চিনি, দুধ ও অন্যান্য উপাদান যোগ করলে।
তাঁর মতে, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি কাজ করে, আর তিনি খোলা মন নিয়ে থাকেন। খাবার শুধু বিজ্ঞান নয়—খাবার আরাম, খাবার সংস্কৃতি, খাবার আরও অনেক কিছু।
তাঁর শেষ পরামর্শ: 'আজ যা-ই ভুল করুন না কেন, কাল আর পরশু আবার নতুন করে শুরু করতে পারবেন।' তাই নিজের প্রতি একটু দয়া, একটু ধৈর্য আর একটু ভালোবাসা রাখুন।



