মানচিত্র বদলেও দক্ষিণে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ঢল, আলাবামা-টেক্সাস-ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটদান বেড়েছে, যেখানে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোটের মানচিত্র নতুন করে এঁকে কৃষ্ণাঙ্গদের রাজনৈতিক ক্ষমতা কমানোর অভিযোগ উঠেছিল। এই ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনে আলাবামা, টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটরা আসন জিতেছেন বা ধরে রেখেছেন।
লুইজিয়ানার পাওয়ার কোয়ালিশন ফর ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিসের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি কে. শেলটন বলেন, ভোটের মানচিত্র বদলের এই প্রচেষ্টা রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মুখের ওপর ভেঙে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, এখান থেকে সামনে যাওয়ার পথই শুধু খোলা আছে।
শেলটন আরও বলেন, ভোটাররা সারা দেশে, বিশেষ করে দক্ষিণে, অবিশ্বাস্য ভোটদমন মোকাবিলা করে নিজেদের ভোট ও কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধিত্ব রক্ষার লড়াই এখনো চালিয়ে যেতে হবে বলে তিনি জানান।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত এপ্রিলে, যখন সুপ্রিম কোর্ট লুইজিয়ানা বনাম ক্যালেইস মামলায় ভোটাধিকার আইনের (ভিআরএ) একটি বড় অংশকে কার্যত অকার্যকর করে দেয়। ১৯৬৫ সালের নাগরিক অধিকার আইনের যে বিধান ভোটে বর্ণবৈষম্য রোধ করত, তার শেষ শক্তিশালী ধারাটিই এতে অকার্যকর হয়ে যায়।
ক্যালেইস সিদ্ধান্তের আগেই টেক্সাসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের নির্দেশে নিজেদের দলীয় ক্ষমতা সুসংহত করতে মানচিত্র নতুন করে আঁকেন। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর আলাবামা, টেনেসি ও লুইজিয়ানাসহ একাধিক দক্ষিণের রাজ্য একই পথে হাঁটে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ জেলা নতুন করে আঁকে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পদক্ষেপে দক্ষিণজুড়ে ভোটার ও ভোটাধিকার গোষ্ঠীগুলো ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিবাদে অঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভ হয়, যার মধ্যে আলাবামায় 'অল রোডস লিড টু দ্য সাউথ' কর্মসূচিতে দেশজুড়ে হাজারো মানুষ যোগ দেন।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনই প্রথম সুযোগ এনে দেয়, যেখানে মানচিত্র বদলের প্রভাব ভোটারদের ওপর কেমন পড়েছে, তা দেখা যায়।
ব্ল্যাক ভোটার্স ম্যাটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও আইন পরিচালক অ্যাশলি ইংল্যান্ড-অলব্রাইট বলেন, ক্যালেইস সিদ্ধান্ত, রাজ্য আইনসভাগুলোর আচরণ এবং প্রাইমারি ও মঙ্গলবারের ফলে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটদানের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
২০২৪ সালে আলাবামার ভোটাররা শোমারি ফিগার্সকে নির্বাচিত করেন। তিনি ছিলেন রাজ্যের নতুন আঁকা সংখ্যাগরিষ্ঠ-কৃষ্ণাঙ্গ দ্বিতীয় কংগ্রেসনাল জেলার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ কংগ্রেসম্যান। ওই জেলায় রাজ্যের রাজধানী মন্টগোমেরির বেশির ভাগ অংশ রয়েছে।
ক্যালেইস সিদ্ধান্তের পর আলাবামা দ্রুত পুরনো মানচিত্র ফিরিয়ে আনে, যা ফিগার্সের জেলাকে আবার এমন রূপ দেয়, যা আদালত আগে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রভাব কমানোর মতো বলে মনে করেছিল। তবু মঙ্গলবার আরও কঠিন লড়াইয়ের মুখে ডেমোক্র্যাট ফিগার্স প্রায় আট পয়েন্টে জয় পান।
আলাবামায় সংখ্যাগরিষ্ঠ-কৃষ্ণাঙ্গ কাউন্টিগুলোতে ভোটদান ছিল স্বতন্ত্রভাবে বেশি। রাজ্যে গড়ে ভোটদান ৬৫ শতাংশ বেড়েছে—২০২২ সালের ২৮ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৪৪ শতাংশে। ফিগার্সের জেলায় কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটদান ৮১ শতাংশ বেড়েছে। জেলার সর্বোচ্চ ভোটদানকারী তিনটি কাউন্টিই ছিল কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ।
কালার অব চেঞ্জের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী নাদিন স্মিথ বলেন, এই প্রশাসন ভোটের সুযোগ দেওয়া সুরক্ষাগুলো কমিয়েছে, আর একই সঙ্গে এমন প্রচারণা চালিয়েছে যাতে মনে হয় ভোট দেওয়ার কোনো মূল্য নেই। তবু কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা ভোট দিতে এসেছেন। আগাম ভোটেই ঢল দেখা গিয়েছিল।
জুলাইয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রাইমারিতেও ক্যালেইস সিদ্ধান্ত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছিল। আলাবামার গ্রিন কাউন্টিতে প্রাইমারিতে ভোটদান ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বুলক, লোন্ডেস, ম্যাকন ও মন্টগোমেরি কাউন্টিতেও উল্লেখযোগ্য ভোটদান হয়। ৭০ শতাংশের বেশি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত বুলক কাউন্টি ছিল রাজ্যের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোটদানকারী কাউন্টি।
লুইজিয়ানায়, যে রাজ্য থেকে ক্যালেইস মামলা শুরু হয়েছিল, প্রাইমারিতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা মোট ভোটারের ৩৫.৭ শতাংশ ছিলেন, যদিও জনসংখ্যায় তাঁরা ৩২.১ শতাংশ। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও সেখানে আগের দশকের যেকোনো মধ্যবর্তী বা গভর্নর নির্বাচনের চেয়ে বেশি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।
লুইজিয়ানার এসিএলইউর অ্যাডভোকেসি পরিচালক সারা হুইটিংটন বলেন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও এক্সিট পোল থেকে তাঁরা শুনছেন, ভোটাররা আদালতের সিদ্ধান্তকে তাঁদের ভোটের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করতে দেবেন না।
দক্ষিণে ভোটারদের সংগঠিত করার কাজ দশকের পর দশক ধরে চলছে। ভিআরএ স্বাক্ষরের পাঁচ মাস আগে আলাবামায় এডমন্ড পেটাস সেতুর ওপর ভোটাধিকারের সমর্থনে মিছিল করা প্রায় ৬০০ মানুষের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। 'ব্লাডি সানডে' নামে পরিচিত ওই মিছিল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নাদিন স্মিথ বলেন, দক্ষিণের শিক্ষা হলো সম্প্রদায়ের শক্তি, একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার শক্তি। এইচবিসিইউ শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে মিছিল করে যেতে দেখা গেছে। তাঁর ভাষায়, 'আমি শুধু সামনে থাকা প্রার্থীদের জন্য ভোট দিই না। আমি আমার সম্প্রদায়, আমার মানুষ, আমার পরিবারের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে ভোট দিই।'



