কোস্ট গার্ড জাহাজ আটকে দেওয়ায় বাতিল ১১ রাতের ক্যারিবীয় ক্রুজ, আটকে দুই হাজারের বেশি যাত্রী

মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজ আটকে দেওয়ার পর ১১ রাতের ক্যারিবীয় ক্রুজযাত্রা হঠাৎ বাতিল করেছে এমএসসি ক্রুজেস। মিয়ামি বন্দরে আটকে থাকা এমএসসি পোয়েসিয়া জাহাজে তখন দুই হাজারের বেশি যাত্রী ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ৩ নভেম্বর জানায়, জাহাজের বিভিন্ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় এমএসসি পোয়েসিয়াকে আটকে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি মিয়ামি বন্দরেই আটকে থাকবে, যতক্ষণ না ত্রুটিগুলো সারিয়ে জাহাজটিকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
মিয়ামিতে কোস্ট গার্ডের সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন ফ্র্যাঙ্ক ফ্লোরিও কোস্ট গার্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, চলমান পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট বিষয়ে এখন মন্তব্য করা যাবে না, তবে জাহাজের ব্যবস্থাগুলোতে ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং এমএসসির সঙ্গে তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
এমএসসি ক্রুজেসের এক মুখপাত্র বলেন, বর্তমান যাত্রা বাতিলের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই খবর অতিথিদের জন্য কতটা হতাশাজনক ও বিরক্তিকর, তা আমরা বুঝতে পারছি এবং ছুটির এই ব্যাঘাতের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
মুখপাত্র আরও জানান, যাত্রা শুরুর আগে একটি নিয়ন্ত্রক বিষয় দেখা দেয়, যার সমাধান প্রয়োজন ছিল। সমাধানের চেষ্টা করা হলেও যাত্রা শুরুর সময়ের মধ্যে তা মেটানো যায়নি।
যাত্রীদের ক্রুজ ভাড়ার পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এমএসসি। পাশাপাশি বাড়ি ফেরার যাত্রায় সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মুখপাত্র।
জাহাজটির ১ নভেম্বর মিয়ামি থেকে ছেড়ে ১২ নভেম্বর ফেরার কথা ছিল। যাত্রাপথে জামাইকা, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, হন্ডুরাস ও বেলিজে থামার কথা ছিল।
ক্রুজ বিষয়ক ব্লগ ক্রুজ ক্রিটিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ আটকে দেওয়ার সময় এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ ছিলেন। অনেক যাত্রী এখন অতিরিক্ত বিমান ভাড়া, থাকার খরচ ও ছুটির দিন নষ্ট হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মিয়ামির লিপকন, মার্গুলিস অ্যান্ড উইঙ্কলম্যান আইন সংস্থার সামুদ্রিক আইনজীবী অ্যালেক্স পেরেজ বলেন, হাজারো যাত্রীবাহী একটি ক্রুজ জাহাজকে জরিমানা না করে আটকে দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে ক্রুজ জাহাজ নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় বলে জানান তিনি।
পেরেজ বলেন, যাত্রীদের নিয়ে যাত্রা শুরুর মুখে জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘটনাই বলে দেয়, কোস্ট গার্ড এমন কিছু গুরুতর বিষয় পেয়েছে, যার কারণে আটকাদেশ দেওয়া প্রয়োজন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে জাহাজ পরিদর্শন ও তাতে ওঠার ক্ষমতা কোস্ট গার্ডের রয়েছে বলে জানান তিনি।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তাদের পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে আসা বিদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ পরিদর্শন করা হয়, যাতে সেগুলো নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত মান মেনে চলে কি না, তা যাচাই করা যায়। বড় ধরনের অমান্য ধরা পড়লে ত্রুটি সারানো না পর্যন্ত জাহাজ আটকে রাখা যায়।
পেরেজ আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা দাবি জানাতে পারবেন, তবে কোনো শ্রেণিগত মামলা করা যাবে না। বড় ক্রুজ কোম্পানিগুলোর বাধ্যতামূলক যাত্রী টিকিট চুক্তিতে শ্রেণিগত মামলা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনলাইন ফোরামে কয়েকজন যাত্রী নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এক যাত্রী লিখেছেন, তিনি ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এমএসসি পোয়েসিয়ায় ছিলেন। রাতের খাবারের সময় তিনি লক্ষ্য করেন, নির্ধারিত সময়েও জাহাজ বন্দর ছাড়েনি।
ওই যাত্রী আরও লেখেন, ধারাবাহিক যাত্রার শেষ অংশ বাতিল হওয়ায় তিনি হতাশ হলেও এমএসসি যে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে এবং বাড়ি ফেরায় যে বাস্তব সহায়তা দিচ্ছে, তার প্রশংসা করেন তিনি। আরেকজন মন্তব্য করেন, কোস্ট গার্ড জাহাজ আটকে রাখায় নিশ্চয়ই বড় কোনো ত্রুটি ছিল।



