কুড়িগ্রামে স্ত্রীর সামনে পৌর কর্মচারীকে কাঁচি দিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত আটক

কুড়িগ্রাম জেলা শহরের পৌর টাউনহলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষে মনছুর (৫৮) নামে এক পৌর কর্মচারীকে তাঁর স্ত্রীর সামনে সার্জিক্যাল কাঁচি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার বিকেলে কলেজ মোড়ের টাউনহলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শাহনেওয়াজ সানিকে (৩২) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অভিযুক্ত সানি শহরের সরদারপাড়া এলাকার জুলহাসের ছেলে।
নিহত মনছুর দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। সর্বশেষ তিনি পৌর টাউনহলের কেয়ারটেকারের দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ ও টাউনহলে উপস্থিত জেলা প্রশাসন এবং পৌরসভার কর্মচারীদের ভাষ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রথম পর্বের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা চলে যান। পরে শাহনেওয়াজ সানি টাউনহলে প্রবেশ করেন।
মনছুর তাঁকে জানান, অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে এবং ভেতরে প্রবেশের প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একই সময়ে মনছুরের স্ত্রী মল্লিকা (৪৮) টিফিনের বাটিতে করে স্বামীর জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে টাউনহল চত্বরে আসেন। মনছুর স্ত্রীর কাছ থেকে খাবারের বাটি নেওয়ার সময় শাহনেওয়াজ সানি তাঁর বুকে ধারালো কাঁচি দিয়ে একাধিক আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
মল্লিকা বাধা দিতে গেলে তাঁকেও কাঁচি দিয়ে আঘাত করা হয়। মনছুর ও মল্লিকার চিৎকারে টাউনহলের ভেতরে থাকা কর্মচারীরা এগিয়ে যান। পরে দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মনছুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত মল্লিকাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত যুবককে আটক করে তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ওসি কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ঘটনাটি আকস্মিক, পূর্বপরিকল্পিত নয়। ওই যুবকের কাছে কেন কাঁচি ছিল এবং কেনই বা তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটালেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সানি কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ। তাঁর কাছে আগে থেকে কেন সার্জিক্যাল কাঁচি ছিল, তা জানা যায়নি।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ পুলিশ ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পৌর কর্মচারী হত্যাকাণ্ডের পরও শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পৌর টাউনহলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান হয়।




