সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি
সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান বেতন কাঠামো এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নতুন করে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির পর সরকারি গেজেট আকারেও তা প্রকাশ করা হয়েছে।
গঠিত এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। তাঁর সঙ্গে কমিটিতে আছেন আরও পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
কমিটির অন্য পাঁচ সদস্য হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান বেতনস্কেলে যেসব অসংগতি রয়েছে এবং এ নিয়ে যে নানা অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বিস্তারিত খতিয়ে দেখাই হবে কমিটির প্রধান কাজ। পর্যালোচনা শেষে এসব সমস্যা নিরসনে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করবে এই কমিটি।
কমিটির পর্যালোচনার পরিধিতে কেবল বিদ্যমান সমস্যাই নয়, বরং বেতন গ্রেডের উন্নয়ন, অবনমন এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সমতা আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের কাজের ধরন বিবেচনায় নতুন করে ঝুঁকিভাতা বা অন্য কোনো ভাতা চালু করা সম্ভব কি না, কমিটি সেটিও বিবেচনা করবে। বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে মতামত দেওয়ার দায়িত্বও তাদের দেওয়া হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই কমিটির দাপ্তরিক ও সাচিবিক সার্বিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ। কাজ পরিচালনার সুবিধার্থে প্রয়োজনে নতুন সদস্য যুক্ত করার এখতিয়ার রাখা হয়েছে কমিটির হাতে।
এ ছাড়া কাজের প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা কমিটিকে সরাসরি সহযোগিতা করবেন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনা করে যেকোনো সময় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


