এক ঘণ্টা আগে ঘুমাতে গেলেই ওজন কমে, বলছে নতুন গবেষণা

এক ঘণ্টা আগে ঘুমাতে গেলে ওজন কমতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে নতুন এক গবেষণায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনওয়াইইউ) গবেষকরা দেখেছেন, প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যেসব প্রাপ্তবয়স্ক এক ঘণ্টা আগে ঘুমাতে গেছেন, আট সপ্তাহে তাঁদের ওজন গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৩ পাউন্ড কমেছে। ঘুমের দৈর্ঘ্য না বাড়লেও শুধু ঘুমাতে যাওয়ার সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে এই ওজন কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে এনওয়াইইউ ররি মেয়ার্স কলেজ অব নার্সিং। এটি প্রকাশিত হয়েছে 'নার্সিং রিসার্চ' সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান লেখক সুসান কোল ম্যালোন, কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপক।
পরীক্ষায় অংশ নেন প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৯৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যাঁরা নিয়মিত রাতে সাড়ে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমাতেন। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক আট সপ্তাহের একটি জীবনযাপন শিক্ষা কোর্সে অংশ নেন, যেখানে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ে শেখানো হয়।
অন্য অর্ধেক একই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আচরণগত প্রশিক্ষণ পান, যার লক্ষ্য ছিল ধাপে ধাপে তাঁদের আগে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের রক্তে শর্করা, ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ড মাপেন সেন্সর, ঘুমের লগ ও কব্জিতে পরা মনিটরের সাহায্যে।
ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো দলেই রক্তে শর্করার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। দুই দলই ওজন কমিয়েছে, তবে ঘুমের প্রশিক্ষণ পাওয়া দল জীবনযাপন শিক্ষা পাওয়া দলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ওজন কমায়নি।
তবে ঘুমের প্রশিক্ষণ পাওয়া অংশগ্রহণকারীরা ঘুমের মান ভালো হওয়া ও দিনের বেলা কম ঝিমুনির কথা জানিয়েছেন। তাঁরা ধীরে ধীরে আগে ঘুমাতে যেতে শুরু করেন — গড়ে প্রায় ১২ মিনিট আগে ঘুমাতে যান তাঁরা।
দুই দল মিলিয়ে আলাদা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাঁরা আগে ঘুমাতে গেছেন, তাঁদের ওজন বেশি কমেছে। পরিসংখ্যানগত হিসাবে, প্রতি ৬০ মিনিট আগে ঘুমাতে যাওয়া আট সপ্তাহে প্রায় ১ দশমিক ৩ পাউন্ড ওজন কমার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে এই ফলাফল সম্পর্ক দেখায়, আগে ঘুমাতে যাওয়াই ওজন কমার কারণ — তা প্রমাণ করে না।
গবেষণার প্রধান লেখক ম্যালোন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, 'আমরা কতক্ষণ ঘুমাই, শুধু তা নয় — কখন ঘুমাতে যাই, সেটিও ওজন কমানো ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও উপেক্ষিত একটি বিষয় বলে মনে হচ্ছে।'
গবেষকরা এর পেছনে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ভূমিকার কথা বলেছেন। রাত জেগে থাকলে কৃত্রিম আলোর সংস্পর্শ বাড়ে, যা শরীরের চাপের প্রতিক্রিয়া সক্রিয় করতে পারে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে প্রভাব ফেলতে পারে।
দেরিতে জাগলে ঘ্রেলিনের মতো ক্ষুধার হরমোন বাড়ে এবং রাতে খাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে — ঠিক তখনই শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা সবচেয়ে কম থাকে। ম্যালোন বলেন, 'এর বিপরীতে, আগে ঘুমাতে গেলে রাতে খাওয়া সীমিত হতে পারে এবং খাবার গ্রহণ শরীরের বিপাকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়ের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।'
ম্যালোন আরও বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম, কম ঘুমানো প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের ঘুম বাড়ালে গ্লুকোজের মাত্রা ও ওজন কমায় উন্নতি হবে, কিন্তু আমাদের গবেষণায় তা হয়নি।'
গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পরীক্ষাটি মাত্র আট সপ্তাহ চলেছে, তাই অংশগ্রহণকারীরা আগে ঘুমানোর অভ্যাস ধরে রাখতে পারবেন কি না বা ওজন কমা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে কি না, তা জানা যায়নি।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীরা কব্জিতে মনিটর পরলেও ঘুমের মান ও দিনের বেলা ঝিমুনির মতো গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি অনেকাংশে তাঁদের নিজের লেখা লগের ওপর নির্ভর করেছে।
গবেষণাটির অর্থায়ন করেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নার্সিং রিসার্চ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি বিভাগ। ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হয়েছে।




