বিতর্কিত ‘ফরোয়ার্ড ফাম্বল’ সিদ্ধান্তে উত্তাল টেক্সাস-মিসৌরি ম্যাচ, ৩৪-২০ ব্যবধানে জিতল লংহর্নস

কলেজ ফুটবলে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) মিসৌরির কলাম্বিয়ার ফরো ফিল্ডের মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে টেক্সাস লংহর্নস ও মিসৌরি টাইগার্সের ম্যাচে রেফারিদের এক সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে ম্যাচের মোড়। শেষ পর্যন্ত টানা ২১ পয়েন্ট তুলে ৩৪-২০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে টেক্সাস।
ম্যাচটির কলেজ ফুটবল প্লেঅফের দৌড়ে বড় প্রভাব ছিল। তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে টেক্সাস ২০-১৩ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। তখন তৃতীয় ডাউন ও ১০ গজের পরিস্থিতিতে কোয়ার্টারব্যাক আর্চ ম্যানিং পেছনে সরে পাস ছুড়তে যান। প্রতিপক্ষের আঘাতের মুখে বল হাতছাড়া হয়। টেলিভিশনে দেখে মনে হচ্ছিল, বল হাতছাড়া হওয়ার আগেই ম্যানিংয়ের হাত সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল — অর্থাৎ এটি একটি অসম্পূর্ণ ফরোয়ার্ড পাস।
কিন্তু মাঠের রেফারিরা বিষয়টি সেভাবেই দেখেননি। এক পার্শ্বরেখার কর্মকর্তা একে অসম্পূর্ণ পাস হিসেবে চিহ্নিত করলেও আরেকজন খেলা চালিয়ে যেতে দেন। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং একে ফরোয়ার্ড ফাম্বল হিসেবে গণ্য করেন।
সেই সিদ্ধান্তে টেক্সাসের রিসিভার এমেট মোজলি দ্য ফিফথ ১৪ গজ এগিয়ে গিয়ে বল দখল করেন এবং টেক্সাস ফার্স্ট ডাউন পায়।
খেলাটি পর্যালোচনার সময় এবিসি/ইএসপিএনের ধারাভাষ্যকার জো টেসিটোর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “তারা কি বলছে এটা ফরোয়ার্ড পাস নয়, বরং একটি ফাম্বল?!” রং ধারাভাষ্যকার জেসি পামারও হতবাক হয়েছিলেন।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, রেফারিরা খেলাটি পুনরায় দেখেও সিদ্ধান্ত বদলাননি — ফাম্বলই বহাল থাকে। এর মাত্র তিনটি খেলার পর টেক্সাস সমতাসূচক টাচডাউন করে।
এরপর টেক্সাস আর পেছনে তাকায়নি — টানা ২১ পয়েন্ট তুলে ৩৪-২০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় লংহর্নসরা। কিন্তু বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি মিসৌরি সমর্থকদের মনে প্রশ্ন রেখে গেছে — তারা কি একটি ফুটবল ম্যাচ দেখলেন, নাকি নিয়মের এক সৃজনশীল ব্যাখ্যা?
সিদ্ধান্তের পরপরই কলেজ ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সিদ্ধান্তটিকে “কারচুপি” বলে অভিহিত করেন এবং দর্শক টানার জন্য এসইসি ম্যানিং ও লংহর্নসের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। এক এক্স ব্যবহারকারী লেখেন, তিনি এই কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সাবেক রেফারি ও বর্তমান নিয়ম বিশ্লেষক টেরি ম্যাকঅলে বলেন, “এটি স্পষ্টতই একটি অসম্পূর্ণ পাস। হাত সামনের দিকে যাওয়ার পর তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ হারান।”
মিসৌরির সাবেক ও এনএফএলের সাবেক কোয়ার্টারব্যাক চেজ ড্যানিয়েল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দেখা সবচেয়ে হাস্যকর সিদ্ধান্ত এটি... নিয়ম বিশ্লেষক ও জেসি পামার সম্পূর্ণ হতবাক।” মিসৌরির সাবেক ওয়াইড রিসিভার টি. জে. মো বলেন, “এই সিদ্ধান্ত মিসৌরিকে প্লেঅফের দৌড় থেকে ছিটকে দিল। একেবারে হাস্যকর। এটা কোন দুনিয়ায় ফরোয়ার্ড পাস নয়?”
আউটকিকের কলেজ ফুটবল প্রতিবেদক ট্রে ওয়ালেস বলেন, “এটাকে আর্চ ম্যানিংয়ের ফাম্বল বলা হয়েছে, আর টেক্সাস তৃতীয় ডাউন পেরিয়ে গেছে। মিসৌরিতে কী হচ্ছে!” অনথ্রি-এর ডেভিড পোলাক বলেন, “টেক্সাসের জন্য আমার দেখা সবচেয়ে অদ্ভুত ফরোয়ার্ড ফাম্বল এটি।” সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় ব্রেইডেন ফেহোকো লেখেন, “টেক্সাস/মিসৌরি ম্যাচে আসলেই কারচুপি হচ্ছে।”
ম্যাচের পর মিসৌরির প্রধান কোচ এলি ড্রিংকউইটজ রেফারিদের সমালোচনা করতে বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। তিনি ইঙ্গিত দেন, মনে যা আছে তা বললে তাকে জরিমানা গুনতে হতে পারে।
সাবেক এনএফএল কোয়ার্টারব্যাক শন সলিসবারি আউটকিককে বলেন, ম্যাচের পরপরই কর্মকর্তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত, সুস্পষ্ট ভুলের জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।
এই ঘটনা কলেজ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে বিতর্কের আরেকটি অধ্যায় হয়ে রইল — যা খেলার সততা নিয়ে ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন আরও জোরালো করবে।




