যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীনতা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গত বছর এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। বছরের পর বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ২০২৫ সালে গৃহহীনতা কমেছে ৬ শতাংশের বেশি।
সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৪৯ হাজার কম মানুষ এখন গৃহহীন। টানা দ্বিতীয় বছর গৃহহীনতা কমেছে—২০২৪ সালেও ছোট আকারে কমতি দেখা গিয়েছিল।
তবু এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাত লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে বা রাস্তায় বাস করছেন। কোভিড-১৯ মহামারির আগের তুলনায় এই সংখ্যা এখনো অনেক বেশি।
দেশজুড়ে সম্প্রদায়গুলোতে করা বার্ষিক গণনার ফল ঘোষণা করে আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের (এইচইউডি) সচিব স্কট টার্নার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, 'সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের রাস্তা থেকে সরানো এবং সম্প্রদায়গুলোতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপ গৃহহীনতায় ঐতিহাসিক হ্রাস এনেছে।' তবে সংস্থাটি এখনো বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
একই গণনার ভিত্তিতে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স টু এন্ড হোমলেসনেস নামের অ্যাডভোকেসি সংগঠনের নির্দেশে করা আলাদা এক স্বাধীন বিশ্লেষণেও একই ধরনের কমতি পাওয়া গেছে। তবে সেই বিশ্লেষণে কমতির কারণ হিসেবে ভিন্ন বিষয়গুলোকে দায়ী করা হয়েছে।
সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী অ্যান অলিভা বলেন, 'এটা ভালো খবর যে আরও বেশি মানুষ আবাসন পাচ্ছেন এবং কংগ্রেসের অর্থায়নে চলা কর্মসূচিগুলো কাজ করছে।'
ট্রাম্প প্রশাসন কমতির মূল কারণ হিসেবে অভিবাসন নীতির পরিবর্তনকে উল্লেখ করেছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় নিউইয়র্ক, শিকাগো, বস্টন ও ডেনভারে আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল নেমেছিল, যারা গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলেন। সিসেরো ইনস্টিটিউটের পাবলিক সেফটি পলিসি পরিচালক ডেভন কার্টজ বলেন, 'সাম্প্রতিক এই কমতির অর্ধেকেরই কারণ ওই চারটি শহর।'
কার্টজ সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যেখানে মাদক ও অ্যালকোহল নিষিদ্ধ—এমন মদ্যপানমুক্ত আবাসনের দিকে যাওয়া হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, মাদকাসক্তি থেকে পুনরায় ফিরে আসা সাধারণ ঘটনা, আর তখন মানুষ আবার রাস্তায় ফিরে যেতে পারে।
প্রশাসন বলছে, মাদকমুক্ত থাকার শর্ত আরও বেশি মানুষকে সুস্থ হতে সাহায্য করবে এবং তারা এ ধরনের কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে চায়। প্রশাসন কয়েক বিলিয়ন ডলারের গৃহহীনতা ব্যয় পুনর্গঠন করে বাধ্যতামূলক আসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাসহ স্বল্পমেয়াদি আবাসনের দিকে সরাতে চায়। তবে আদালতের নির্দেশে সেই পরিকল্পনা এখনো আটকে আছে।
প্রশাসনের যুক্তি, দীর্ঘদিনের ফেডারেল নীতি—আগে স্থায়ী আবাসন দেওয়া, তারপর স্বেচ্ছায় চিকিৎসা দেওয়া—ব্যর্থ হয়েছে এবং মহামারির সময় গৃহহীনতা বেড়ে যাওয়ার জন্য এটিই দায়ী। তবে অলিভা বলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই মানুষকে রাস্তা থেকে সরিয়ে আনার কর্মসূচিই সাম্প্রতিক কমতির বড় অংশের কারণ, বিশেষ করে প্রবীণ সেনাদের ক্ষেত্রে।
প্রবীণ সেনাদের মধ্যে গৃহহীনতা গত বছর ৭ শতাংশের বেশি কমেছে এবং ২০১০ সালের তুলনায় কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে গৃহহীন মানুষের সংখ্যায় ছোট আকারে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও আসক্তিতে ভোগার সম্ভাবনা বেশি।
এইচইউডি গৃহহীনদের শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযানের কৃতিত্বও দিয়েছে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে শহরগুলো প্রকাশ্য স্থানে ঘুমানো ও শিবির করা নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে অলিভা বলেন, তার সংগঠনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব শহরে এমন নিষেধাজ্ঞা আছে, সেগুলো জাতীয় গড়ের চেয়ে খারাপ করেছে।
অলিভা আরও বলেন, গত বছরের কমতি ছিল ব্যাপক এবং এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু জায়গায় ভাড়ার বাজার নরম হয়েছে; ভাড়া এখনো বেশি হলেও মহামারির সময়ের রেকর্ড উচ্চতা থেকে কমেছে, যা নতুন করে গৃহহীন হওয়ার ধারা থামাতে পারে। পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনা ও হাওয়াইয়ের মতো বড় আবহাওয়া দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলোতেও কমতি দেখা গেছে, যেখানে এইচইউডিসহ অন্যান্য সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে গিয়ে গৃহহীনদেরও সহায়তা দিয়েছে।




