পেনসিলভানিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব হলেন রেগি জ্যাকসন, স্মরণ করালেন ১৯৬০-এর দশকের বর্ণবাদ

বেসবল হল অব ফেম তারকা রেগি জ্যাকসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। শনিবার সকালে তিনি অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগের ওয়েবসাইটের একটি লিংক শেয়ার করে জানান, তাঁর জন্মস্থান পেনসিলভানিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা বেড়ে চলেছে।
ফিলাডেলফিয়ার কাছে উইনকোটে জন্ম নেওয়া ৮০ বছর বয়সী জ্যাকসন লিখেছেন, এই পরিস্থিতি তাঁকে ১৯৬০-এর দশকে নিজের অভিজ্ঞতা করা বর্ণবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
তিনি লিখেছেন, ‘এটা আমাকে ১৯৬০-এর দশকে আমি যে বর্ণবাদের মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলে কালো মানুষদের সেবা দিতে অস্বীকার করার সাইনবোর্ড, বাথরুম ও পানির কলে আলাদা “সাদা” আর “রঙিন” সাইন—সেই ঘৃণা কেমন দেখতে আর কেমন অনুভূত হয়, তা আমার মনে আছে। আমরা কোনো রূপেই, কোনো মানুষের বিরুদ্ধেই এটা মেনে নিতে পারি না।’
জ্যাকসন ফিলাডেলফিয়া এলাকার রাজনীতিবিদ ও নেতাদেরও সমালোচনা করেন। তিনি নির্বাচিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন, ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা জানিয়ে তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য কোথায়।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি যদি সেখানে থেকে ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের পাশে দাঁড়াতে পারতাম। আমি ফিলাডেলফিয়ার নির্বাচিত কর্মকর্তা ও অন্য নেতাদের জিজ্ঞেস করছি, ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য কোথায়? ঘৃণামূলক ভাষাকে যখন ক্ষমা করা হয় বা বারবার বলা হয়, তখন শত্রুতা গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে এবং ভয় ও বিভাজন আরও গভীর হয়। নেতাদের স্পষ্টভাবে ও ধারাবাহিকভাবে বলা উচিত, ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণার আমাদের সমাজে কোনো জায়গা নেই।’
২০২৪ সালে মেজর লিগ বেসবল যখন নিগ্রো লিগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আলাবামার বার্মিংহ্যামের ঐতিহাসিক রিকউড ফিল্ডে প্রথমবারের মতো ম্যাচ আয়োজন করে, তখন জ্যাকসন নিজের জীবনের বর্ণবাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, বার্মিংহ্যাম ব্ল্যাক ব্যারন্স দলে খেলার সময়কার বর্ণবাদ ও বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের কষ্টের কথা তিনি কাউকেই কামনা করেন না। ওই দলটি ছিল তৎকালীন কানসাস সিটি অ্যাথলেটিকসের মাইনর লিগ সহযোগী দল।
জ্যাকসন জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় ঢুকলে তাঁকে দেখিয়ে বলা হতো তিনি সেখানে খেতে পারবেন না, হোটেলে গেলে বলা হতো তিনি থাকতে পারবেন না। সাবেক অ্যাথলেটিকস মালিক চার্লি ফিনলির কান্ট্রি ক্লাবে স্বাগত জানানোর নৈশভোজেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রলি ফিঙ্গার্স, জনি ম্যাকনামারা, ডেভ ডানকান এবং জো ও শ্যারন রুডি না থাকলে তাঁর উপায় ছিল না—প্রায় দেড় মাস ধরে সপ্তাহে তিন-চার রাত তিনি তাঁদের সোফায় ঘুমিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যদি না তিনি সেখান থেকে চলে যান।
জ্যাকসন তাঁর ক্যারিয়ারে ৫৬৩টি হোম রান করেছেন। ১৯৭৭ সালের বিশ্ব সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের বিপক্ষে ইয়াঙ্কিসের শিরোপা নিশ্চিত করা ম্যাচে তিনটি হোম রান করে তিনি ‘মিস্টার অক্টোবর’ নাম পান।
পেনসিলভানিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে তাঁর বার্তার মূল কথা একটাই—ঘৃণার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে, আর নেতাদের স্পষ্টভাবে ও ধারাবাহিকভাবে বলতে হবে যে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই।




