মধ্য জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আহত ২০ জনের বেশি
মধ্য জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ৪ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে শিজুওকা প্রিফেকচারে। ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক দিনে শক্তিশালী পরাঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পশ্চিম শিজুওকা প্রিফেকচারে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ৪ মিনিটে (শনিবার গ্রিনিচ মান সময় ১৬টা) এটি আঘাত হানে।
কিয়োদো সংবাদ সংস্থা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আইচি ও শিজুওকা প্রিফেকচারে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামামাতসু শহর, প্রাচীন রাজধানী কিয়োতো ও নারা এবং মাউন্ট ফুজি অবস্থিত ইয়ামানাশি ও গিফু প্রিফেকচারসহ আইচি প্রিফেকচারের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
কিয়োদো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে থাকায় রাজধানী টোকিওতে কম্পন অনুভূত হয়নি।
জাপানের টেলিভিশনে দেখা গেছে, দোকানের জানালার কাচ ভেঙে টুকরো রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে পড়ে বইয়ের স্তূপ জমে গেছে। সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, পালাতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আবহাওয়া সংস্থা জনগণকে আগামী এক সপ্তাহে, বিশেষ করে পরের দুই থেকে তিন দিনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। সংস্থার কর্মকর্তা আয়াতাকা এবিতা সাংবাদিকদের বলেন, ভূমিধস, পাথর পড়া এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নানকাই ট্রাফে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণীয় পরিবর্তন ধরা পড়েনি। নানকাই ট্রাফ হলো জাপানের অংশের নিচে দুটি বড় টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত সমুদ্রের তলদেশের একটি খাদ, যেখানে বিজ্ঞানীরা বলছেন একটি মহাভূমিকম্প ঘটতে পারে।
ভূমিকম্পের পর কিছু স্থানীয় ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিনকানসেন বুলেট ট্রেন ধীরগতিতে চলাচল করে। রেল পরিচালক জেআর সেন্ট্রাল জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর টোকিও ও ওসাকাকে সংযুক্তকারী তোকাইদো শিনকানসেন লাইনে শিজুওকা ও গিফু-হাশিমা স্টেশনের মধ্যে ট্রেন বিলম্বিত হয়।


