সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই জেলার সাত বাংলাদেশি নিহত, আহত ছয়জন
সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই জেলার তিন পরিবারের সাত বাংলাদেশি নাগরিক। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। হতাহত মোট ১৩ জন প্রবাসীর সবারই আদি নিবাস কক্সবাজার জেলায়। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতরা মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনার শিকার হন। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাতজনের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন, আলম শাহের পরিবারের দুজন এবং মোহাম্মদ ইলিয়াছের পরিবারের একজন রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা।
অপর পরিবারের নিহত সদস্যরা হলেন আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও তাঁদের কন্যা ফারিয়া। তাঁদের মধ্যে ফারিয়া ছিল মাত্র এক মাস বয়সী কন্যাশিশু। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে আসা মোহাম্মদ ইলিয়াছের স্ত্রী আফসানা বিবি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
নিহতদের সবাই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তাঁরা সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন কোম্পানির স্টোরকিপার, ইলিয়াছ ছিলেন ফর্কলিফট চালক এবং আলম শাহ মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার ছিলেন। কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের পরিচয় জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরাকে খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে এবং অপর কন্যা ইউসরাকে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়পত্র পেলেও তাঁর ছেলে ফয়সাল বর্তমানে ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইলিয়াছ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। দুর্ঘটনায় আহত হওয়া আরেক বাংলাদেশি গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহতদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতাল ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে বলে কনস্যুলেটের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি চালক। দুর্ঘটনার মুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়, যদিও চালকের দাবি, গাড়ির টায়ার ফেটে এই বিপত্তি ঘটেছিল।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে কনস্যুলেট। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় ট্রাফিক দপ্তর ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিস পরিদর্শন করেন। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোসহ আহতদের সুচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশির মৃত্যুতে তাঁদের স্বজন, সহকর্মী ও সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকায় স্বজনদের ওপর শোকের ভার আরও বেড়েছে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।




