কোপেনহেগেনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ দূতাবাস

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডেনমার্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জকি আহাদ। এরপর আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিএনপির ডেনমার্ক শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী মনির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শাহজাহান, আইনবিষয়ক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া সরোয়ার, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান শেখ মামুন ও মশিউর রহমান সোহেল। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে দিবসটির তাৎপর্য এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জকি আহাদ তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ধারাবাহিকতায় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় মূল্যবোধ ধারণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। তিনি দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সম্মিলিতভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আন্তরিক অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজকরা উপস্থিত অতিথি, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশপ্রেম ও সংহতির চেতনা ধারণ এবং প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় মূল্যবোধ তুলে ধরার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


