সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীতে ককটেল আতঙ্ক, মিরপুরে বাসে আগুন

সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘটছে ককটেল বিস্ফোরণ। কখনো চলন্ত মোটরসাইকেলে এসে, কখনো ফ্লাইওভারের ওপর থেকে, আবার কখনো আড়াল কিংবা নির্জন স্থান থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দুর্বৃত্তরা সাধারণত মোটরসাইকেলে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্লাইওভারের ওপর কিংবা আশপাশের আড়াল থেকেও ককটেল ছোড়া হচ্ছে। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে।
সূত্র বলছে, সবশেষ শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন এবং যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে মিরপুরের পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বিহঙ্গ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া, ডেমরার বাঁশেরপুল এবং যাত্রাবাড়ীতে বিএনপি নেতা নবীউল্লাহ নবীর নবী টাওয়ারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এ ছাড়া বনানী থানাধীন সেতু ভবনের গার্ড রুমের সামনে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে গার্ড রুমের কাচ ভেঙে যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরিত ককটেলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে। সেখানে আরও একটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া যায়।
পুলিশের অনুযায়ী, এ ঘটনায় কাউকে আটকও করা সম্ভব হয়নি। দুর্বৃত্তরা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছে এবং তাদের সংখ্যা কত ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করা যায়নি। তবে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, অপরাধী যত ক্ষমতাশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চলছে।


