উৎপাদন কমায় সুগন্ধি চালের দাম চড়া, কৃষকদের অতিরিক্ত প্রণোদনা দেবে সরকার

দেশে সুগন্ধি চালের উৎপাদন এলাকা ক্রমেই কমে আসছে। এতে বাজারে এ ধরনের চালের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুগন্ধি চাল উৎপাদনকারী এলাকার কৃষকদের অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে খাদ্য, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুগন্ধি চাল উৎপাদনের এলাকাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ চালের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারও ব্যাপক পরিসরে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করছে না। অল্প কিছুদিন রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি সুগন্ধি চাল উৎপাদনকারী এলাকাগুলো পরিদর্শন করবে।
যেসব এলাকায় এখনো এ চাল উৎপাদিত হচ্ছে এবং কৃষকদের উৎপাদনে আগ্রহ রয়েছে, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের কোন অঞ্চলে কোন ফসল ভালো হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে কোন ফসল বেশি উপযোগী, তা নির্ধারণে ভূমি মন্ত্রণালয় সারা দেশে জরিপ চালাচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে বাজারে এ চালের সরবরাহ সংকট ও উচ্চমূল্যের সমস্যা কমে আসবে।
একই সভায় আমন মৌসুমে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানানো হয়।



