কাহারোলে প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণিদের বিনামূল্যে শীতকালীন সবজির বীজ দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ
বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে সবজি চাষে উৎসাহিত করা, পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং কৃষিনির্ভর পরিবারের খাদ্যব্যয় কমানোর লক্ষ্যে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণিদের মধ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের শীতকালীন সবজির বীজ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
শনিবার সকালে উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ সময় স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিদের হাতে লালশাক, মুলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শিম ও টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজির বীজ তুলে দেওয়া হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার সভাপতি মাহফুজ ইসলামের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি সঞ্জয় রায়, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, নারী বিষয়ক সম্পাদক ইতি আক্তার, ক্রীড়া সম্পাদক কল্যাণ রায় এবং কার্যকরী সদস্য মমিনুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, শামীম ইসলাম, সুমি আক্তার, পলাশ রায়, রিপন রায় ও এ পি রানী রায়।
আয়োজকরা বলেন, গ্রামের অনেক পরিবারের বাড়ির আঙিনা ও বসতভিটার আশপাশে সবজি চাষের উপযোগী জায়গা থাকলেও ভালো বীজের অভাবে তারা চাষাবাদ করতে পারেন না।
তাঁরা বলেন, পরিকল্পিতভাবে এসব জায়গায় সবজি উৎপাদন করা গেলে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব। এমনকি বাড়তি সবজি বিক্রি করে সংসারের আয়ও বাড়ানো যায়। এ লক্ষ্যেই প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণিদের হাতে বিনামূল্যে বীজ তুলে দেওয়া হয়েছে।
বীজ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিরা। কৃষাণি ইয়াসমিনা আক্তার বলেন, আমরা গ্রামের সাধারণ কৃষাণি। অনেক সময় অর্থের অভাবে ভালো বীজ কিনে সবজি চাষ করা সম্ভব হয় না। বসুন্ধরা শুভসংঘ বিনামূল্যে বীজ দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা বীজগুলো যত্নসহকারে রোপণ করে ভালো ফলন পাওয়ার চেষ্টা করব।
গৃহিণী সুমি বেগম বলেন, এ বীজ দিয়ে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করতে পারব। পরিবারের জন্য নিজেরাই সবজি উৎপাদন করতে পারলে বাজার থেকে সবজি কেনার খরচ অনেকটা কমবে। এমন উদ্যোগ আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের জন্য বেশ উপকারী।
গৃহবধূ সুলতান বেগম বলেন, নিজের হাতে উৎপাদিত তাজা সবজি পরিবারের সবাইকে খাওয়াতে পারব, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগে আমরা উৎসাহিত হয়েছি।
কৃষাণি মাহফুজা বেগম বলেন, বীজ পেয়ে আমরা অনেক খুশি হয়েছি। বাড়ির অব্যবহৃত জায়গায় সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করেও কিছু আয় করতে পারব। এতে সংসারের খরচে সহযোগিতা হবে।
কৃষক মুসা ইসলাম বলেন, কৃষক ও কৃষাণিরা দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ গ্রামের মানুষকে বাড়িতে সবজি চাষে উৎসাহিত করবে। আমরা বীজগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ভালো ফলন পাওয়ার চেষ্টা করব।
বসুন্ধরা শুভসংঘ কাহারোল উপজেলা শাখার সভাপতি মাহফুজ ইসলাম বলেন, মেহনতি কৃষক-কৃষাণিদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য তাদের নিজেদের উদ্যোগে সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা।
তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা ও অব্যবহৃত জমিতে নিরাপদ সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা কৃষিকাজে আরও সম্পৃক্ত হলে পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অবদান বাড়বে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও কান্তজিউ মন্দির এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই।
বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিরা শীতকালীন সবজি চাষে আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।


