নওগাঁয় ক্লিনিক থেকে নবজাতক নিখোঁজের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

নওগাঁ শহরের বেসরকারি বলাকা ক্লিনিক থেকে এক নবজাতক নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম।
সিভিল সার্জন বলেন, বলাকা ক্লিনিক থেকে নবজাতক নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সিভিল সার্জন অফিসে কেউ জানায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সিভিল সার্জন অফিসের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং থানায় অভিযোগ হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কমিটিতে তিনজন অথবা প্রয়োজনে আরও বেশি সংখ্যক সদস্য রাখা হতে পারে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, বিষয়টি সিজারিয়ান অপারেশন ও আলট্রাসনোগ্রাম সংক্রান্ত। এ জন্য কমিটিতে এ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ এবং নওগাঁ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষজ্ঞ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত করে সঠিক ঘটনা উন্মোচন করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনার গর্ভাবস্থায় পরপর দুটি আলট্রাসনোগ্রামে যমজ সন্তানের কথা জানানো হয়েছিল। গত ৫ নভেম্বর শহরের বলাকা ক্লিনিকে শান্তনার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। তবে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় একটি কন্যাশিশু। অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো তথ্য না পেয়ে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ, শান্তনার গর্ভাবস্থায় শিশুর ওজন ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য আট মাসের মাথায় শহরের রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, পেটে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশন শেষে ওটি থেকে বের করে আনা হয় একটি কন্যাশিশু। ওটির ভেতরেই অপর শিশুটিকে চুরি বা পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
এ অভিযোগে শুক্রবার নওগাঁ সদর থানায় ক্লিনিক মালিক, ডাক্তারসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম।
এ ঘটনায় মো. জিহাদ নামে ক্লিনিকের এক ওয়ার্ড বয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

