রমজানে নিত্যপণ্যের আমদানি সহজ করতে নগদ মার্জিন ন্যূনতম রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানি সহজীকরণ, সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বাজারমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, চাল, গম (আটা), পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুর—এই ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে সংরক্ষণযোগ্য নগদ মার্জিনের হার ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে এসব পণ্যের আমদানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে এসব পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ১৫ মার্চ ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এর আগে রমজান মাসের চাহিদা বিবেচনায় কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার ন্যূনতম রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নির্দেশনার মেয়াদ ৩১ মার্চে শেষ হয়।
নতুন এ সার্কুলার জারির ফলে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এসব পণ্যের বাজারে ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগেই আমদানি সহজ করে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোকে এখন এই ১০ পণ্যের এলসি খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে যতটা সম্ভব কম নগদ মার্জিন রাখতে হবে, যাতে আমদানিকারকদের ওপর আর্থিক চাপ কমে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, সময়মতো আমদানি হলে রমজানে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে এবং দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।
