যাত্রাবাড়ীতে ১৭ হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১৭ জনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (৮ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম খান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় আটজন এবং ২০ জুলাই আরও নয়জন নিহত হন।
জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী ছিল রাজধানীর অন্যতম উত্তপ্ত এলাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই দিনের ঘটনায় মোট ১৭ জন প্রাণ হারান। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, থানার সাবেক ওসি, থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ট্রাইব্যুনালের দেওয়া নতুন সময়সীমা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে তদন্ত সংস্থাকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলার বিচার চলছে। যাত্রাবাড়ীর এই মামলাটি তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলে মামলাটি পরবর্তী ধাপে এগোবে। তখন অভিযোগ গঠনসহ বিচারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সময়সীমা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে মামলাটি এগিয়ে নেওয়ার পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি হলো।

