রাশিয়ার হামলায় পূর্ব ইউক্রেনে ছয় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ছয় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। শনিবার রাতে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, হামলার পর দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ছয় লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার সকালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দ্নিপ্রো অঞ্চলে রাতভর চালানো হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় প্রতিটি শহর ও জনপদে মেরামতের কাজ চলছে।
অঞ্চলটির গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা জানান, বিদ্যুৎকর্মীরা ইতিমধ্যে সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। তবে অবিরাম রুশ গোলাবর্ষণ তাঁদের কাজে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, হাসপাতালসহ জরুরি অবকাঠামোগুলো এখন জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে চলছে।
এর আগে ৩ নভেম্বর গোলাবর্ষণে ওই অঞ্চলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই অঞ্চলটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একই দিন ইউক্রেনজুড়ে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে আরও ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছিল।
রাতভর হামলায় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রোববার সকালে জানিয়েছে, কেন্দ্রটি এখন রিঅ্যাক্টর শীতলীকরণসহ জরুরি পারমাণবিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন কিয়েভ ও মস্কো আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আরেক দফা শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শনিবার রাতের নতুন হামলার পর জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরির সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করতে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা জরুরি। তিনি বলেন, ইউরোপ ও জি-সেভেনের সব দেশে এসব নিষেধাজ্ঞা সমন্বিতভাবে কার্যকর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের আকাশ রক্ষায় বিশ্বের কাছে যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী সক্ষমতা না থাকলে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে উৎপাদন লাইনেই থামাতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য রাশিয়ার সামরিক উৎপাদনব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ানোর দাবিকে সামনে এনেছে।
হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎকর্মীরা মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় কবে নাগাদ পুরো সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


