মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর আগামী দুই বছরের রূপরেখা দিলেন ডেমোক্র্যাটরা: স্বাস্থ্য, শুল্ক—তবে অভিসংশন নয়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর আগামী দুই বছরে কী করবেন, তার রূপরেখা তুলে ধরেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রায় দুই বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'ব্যয়, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি'—এই তিন বিষয়ে সমালোচনা করে আসা দলটি এখন কংগ্রেসে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে তদন্ত ও আইন প্রণয়নের আগ্রাসী কর্মসূচি হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা হাউস ও সিনেটে বড় জয় পেয়েছে। দলের নেতাদের মতে, এই জয় তাদের হাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টির শক্তিশালী হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—এই ক্ষমতা তারা কীভাবে ব্যবহার করবেন।
কংগ্রেসনাল প্রোগ্রেসিভ ককাসের চেয়ার গ্রেগ ক্যাসার বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ডেমোক্র্যাটরা প্রতি সপ্তাহে হাউস ও সিনেটের ফ্লোর থেকে সাহসী আইন পাস করবেন। তিনি মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে দাম বাড়ানো নিষিদ্ধ করা, সুপার পিএসি নিষিদ্ধ করা এবং আইনপ্রণেতাদের শেয়ার লেনদেন নিষিদ্ধ করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
ক্যাসার বলেন, ট্রাম্প যদি এসব বিলে ভেটো দেন, তবে সেটাই হবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের লড়াইয়ের মঞ্চ। আর ২০২৯ সালে সেগুলো আইনে পরিণত করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনের ফলকে ক্ষমতাসীন দলের জন্য গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মধ্যবর্তী নির্বাচনী পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। রিপাবলিকানরা এমন সব সিনেট আসন হারিয়েছে, যেগুলো তারা কয়েক দশক ধরে ধরে রেখেছিল, আর হাউসের এমন আসনও হাতছাড়া হয়েছে যেগুলো কেবল রিপাবলিকানদের জেতানোর জন্যই আঁকা হয়েছিল।
তবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসা ক্ষমতা সীমাহীন নয়। ট্রাম্প ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে থাকবেন এবং বিপুল সমর্থন ছাড়া পাস হওয়া বিলে ভেটো দিতে পারবেন। সিনেটের ফিলিবাস্টার নিয়মও বহাল রয়েছে, ফলে রিপাবলিকানরা ৬০ ভোট ছাড়া পাস হওয়া কোনো বিল আটকে দিতে পারবে।
ভোট গণনা এখনো চলছে। তবে বাকি দুটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জিতলে ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্রদের আসন দাঁড়াবে ৫৬টিতে।
নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে হাউসের স্পিকার হতে যাচ্ছেন হাকিম জেফ্রিস। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী আমেরিকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা এবং সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই কাজ করবেন।
জেফ্রিস অগ্রাধিকার হিসেবে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের (এসিএ) প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট পুনর্বহাল, গত বছর রিপাবলিকানদের অনুমোদিত মেডিকেইড কাটছাঁট বাতিল, ট্রাম্পকে শুল্ক প্রত্যাহারে বাধ্য করা এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানের কথা উল্লেখ করেন।
সিনেটের পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হতে যাওয়া চাক শুমার বলেন, তাদের সব কাজ তিনটি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত—ব্যয় কমানো, সরকারকে জনগণের জন্য কাজ করানো এবং দুর্নীতি দূর করা।
একটি বিষয় আপাতত এজেন্ডায় নেই—ট্রাম্পের অভিসংশন। প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিসংশনের পর সিনেটের রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করেছিল। জেফ্রিস জানান, হাউস ডেমোক্র্যাটিক ককাসের একজন সদস্যও তার কাছে অভিসংশনের কথা তোলেননি।
তিনি বলেন, 'আমরা নিরলসভাবে সাশ্রয়ী মূল্য ও জবাবদিহির ওপর মনোযোগ দিয়েছি।' তবে জবাবদিহির ক্ষেত্রে তদন্তের পরিকল্পনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ধারণার অভাব নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলের ব্র্যান্ড এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় বলে স্বীকার করছেন নেতারা। তবে তারা মনে করেন, নির্বাচনের এই জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দলের প্রার্থীকে শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।



